মৌলভীবাজারে ৪৫টি ইটভাটার সবকটিই অবৈধ: গিলে খাচ্ছে ফসলি জমির মাটি
মৌলভীবাজার জেলায় পরিচালিত ৪৫টি ইটভাটার একটিরও পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই, তবুও সরকারি আইন অমান্য করে বুক ফুলিয়ে চলছে এগুলোর কার্যক্রম। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা লোকালয় থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা নির্মাণের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জেলার অধিকাংশ ভাটাই গড়ে উঠেছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও সড়কের পাশে। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২৩টি ভাটার ছাড়পত্র আগে থাকলেও বর্তমানে তা বাতিল করা হয়েছে এবং বাকিগুলো শুরু থেকেই অবৈধ। তবে প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে মালিকপক্ষ উচ্চ আদালতে রিট করে বছরের পর বছর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ে চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আইন লঙ্ঘন করে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মৌলভীবাজারে প্রতি বছর প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি ঘনফুট ফসলি জমির মাটি ভাটায় চলে যাচ্ছে, যার ফলে জমিগুলো দীর্ঘ মেয়াদে অনুর্বর হয়ে পড়ছে এবং ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নেতা আ স ম সালেহ সোহেল এই পরিস্থিতিকে কৃষি ও পরিবেশের জন্য 'ধ্বংসাত্মক' বলে অভিহিত করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মালিকপক্ষ আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানভীর হোসেন জানিয়েছেন, দ্রুতই পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করে অবৈধ এসব ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: