মৌলভীবাজারে ভোটের লড়াইয়ে বড় ফ্যাক্টর চা শ্রমিক ও তরুণ ভোটার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ২৩ জন প্রার্থী দিনরাত চষে বেড়াচ্ছেন জনপদ থেকে জনপদে। তবে এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে তরুণ ভোটার, চা শ্রমিক এবং বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোটারদের। এই তিন শ্রেণির ভোট যে প্রার্থীর বাক্সে বেশি পড়বে, তিনিই বিজয়ের মালা পরবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জেলায় মোট ভোটার ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩০ জন। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার চা শ্রমিক ভোটার রয়েছেন, যারা বরাবরই নির্বাচনে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়ান। বিশেষ করে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ১ লাখ ৩০ হাজার চা শ্রমিকের ভোট যেকোনো প্রার্থীর ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।
আসনের হালচাল ও ভোটের লড়াই:
মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা): এই আসনে মূল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে বিএনপির নাসির উদ্দিন আহমেদ (ধানের শীষ) ও জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যে। এছাড়া লাঙ্গল প্রতীকের আহমদ রিয়াজ উদ্দিনও প্রচারণায় সক্রিয়। চা বাগানের ৫০-৬০ হাজার ভোট এখানে প্রধান লক্ষ্য প্রনিধীদের।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া): কুলাউড়ায় লড়াই হতে পারে চতুর্মুখী। বিএনপির মো. শওকতুল ইসলাম শকু ও জামায়াতের মো. সায়েদ আলীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য নওয়াব আলী আব্বাস খান (ফুটবল) এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক খান (কাপ-পিরিচ) শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। ৪০ হাজার চা শ্রমিক ভোটারের সমর্থন পেতে মরিয়া সব পক্ষ।
মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর): এই আসনে ধানের শীষের এম নাসের রহমানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আছেন জামায়াতের মো. আব্দুল মান্নান এবং ১১ দলীয় জোটের আহমদ বিলাল (দেওয়াল ঘড়ি)। জামায়াত ও জোটের আলাদা প্রার্থী থাকায় এখানে বিএনপি প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ৫০ হাজার চা শ্রমিক ভোট ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটের দিকে সবার নজর।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ): এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী। তবে এখানে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) ও শ্রীমঙ্গলের সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু (ফুটবল)। ১ লাখ ৩০ হাজার চা শ্রমিকের বিশাল ভোট ব্যাংক এই আসনের প্রধান বৈতরণী। প্রার্থীরা চা শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ছাত্র সংসদের ন্যায় এখানেও জয়ের স্বপ্ন দেখলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, চারটি আসনেই ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত। তবে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ এবং নিরপেক্ষ ভোটারদের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায়, তা দেখার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: