শ্রীমঙ্গলে জোরপূর্বক উচ্ছেদের শিকার নারী উদ্যোক্তা
Led Bottom Ad

রিসোর্ট দখলকে কেন্দ্র করে হামলা–লুটপাট

শ্রীমঙ্গলে জোরপূর্বক উচ্ছেদের শিকার নারী উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

০১/০২/২০২৬ ১৭:৩৭:৫৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি রিসোর্টে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনায় সর্বস্ব হারিয়ে রাস্তায় নামার অভিযোগ করেছেন এক নারী উদ্যোক্তা। রিসোর্টের জমির মালিকের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় মারধর, শ্লীলতাহানি এবং অবৈধ দখলের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।


শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ‘অরণ্যবাস ইকো রিসোর্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা ঢাকার মহাখালী এলাকার বাসিন্দা লাবনী ইয়াছমিন।


লাবনী ইয়াছমিন জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে শ্রীমঙ্গলের মোহাজিরাবাদ এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ খাঁর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে ৮৬ শতাংশ জমি ২০ বছরের জন্য লিজ নেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর লিজের টাকা পরিশোধের শর্ত ছিল।


তিনি বলেন, প্রায় ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ‘অরণ্যবাস ইকো রিসোর্ট’ নির্মাণ করে ব্যবসা শুরু করেন। তৃতীয় কিস্তির ১০ লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পর স্থানীয়দের মাধ্যমে জরিমানাসহ ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি টাকা দিতে গেলে জমির মালিক শর্ত ভঙ্গের অজুহাতে টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান।


লাবনীর অভিযোগ, গত ২৬ নভেম্বর ইউসুফ খাঁসহ কয়েকজন রিসোর্টে গিয়ে তা খালি করে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে রিসোর্টে হামলা, ভাঙচুর ও মারধর করে তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়। পরে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশের সহায়তায় তারা রিসোর্টে ফিরে যান।


তিনি আরও জানান, কিস্তির টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নিলেও জমির মালিক টাকা না নিয়ে রিসোর্ট খালি করার দাবি জানান। এরই মধ্যে গত ২৪ জানুয়ারি পুলিশ তাঁর স্বামী কামরুজ্জামানকে থানায় ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। পরদিন তারা জামিনে মুক্ত হন।


লাবনী ইয়াছমিন অভিযোগ করে বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি সকালে জমির মালিক ২৫–৩০ জন লোক নিয়ে ফের রিসোর্টে হামলা চালান। এ সময় ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়, রিসোর্টের এক কর্মচারীকেও মারধর করা হয়। হামলাকারীরা নগদ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ডিভাইস লুট করে নিয়ে যায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এক কাপড়ে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয়।


পরে ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চাইলে পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে নির্দেশ দেয়। এরপর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা নথিভুক্ত না করে গড়িমসি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের মামলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন লাবনী ইয়াছমিন।


কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, প্রায় ৬০ লাখ টাকার বিনিয়োগ হারিয়ে তিন দিন ধরে তাঁরা বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। থানা থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে গিয়েও কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।


এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। রিসোর্টের মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।


জমির মালিক ইউসুফ খাঁ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে এবং বিষয়টি আদালতেই নিষ্পত্তি হবে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad