সিলেটে সিজিএস-এর গোলটেবিল বৈঠকে নাগরিক সমাজ
‘ভয়মুক্ত পরিবেশ ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র অসম্ভব’
বাংলাদেশে একটি কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভয়মুক্ত ভোটাধিকার এবং নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘুদের কেবল ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার না করে তাদের জীবনের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় অধিকারে সমতা নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে সিলেট নগরের একটি অভিজাত হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত “প্রতিটি কণ্ঠের মূল্য: সংখ্যালঘু অংশগ্রহণ ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও সিজিএস-এর সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, “সংখ্যালঘু ইস্যুকে পার্শ্ব ইস্যু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের ৯.৬ শতাংশ মানুষ যদি নির্বাচনের সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তবে সেই গণতন্ত্র অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে না। আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের ভূমি সমস্যা এবং সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির বিষয়গুলো আজও অমীমাংসিত।”
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২০১৪ সালের ৮ দফা দাবি আজও পূরণ হয়নি। নির্বাচন এলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। ধর্মীয় অবমাননার ঠুনকো অজুহাতে আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়, মানুষকে হত্যা করা হয়। মব জাস্টিসের নামে আমাদের ওপর জুলুম চালানো হচ্ছে।”
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেটের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দা শিরিন হক বলেন, “জাতীয় সংসদে নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত সীমিত। আইনগত নিশ্চয়তা ছাড়া প্রকৃত সমতা সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা নাগরিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।”
বৈঠকে চা শ্রমিক নেতা হরি সবর বলেন, “মজুরি বৈষম্য ও ভূমি অধিকারহীনতা আমাদের নিত্যসঙ্গী। স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রেও আমাদের সন্তানদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়।” অন্যদিকে পাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি গৌরাঙ্গ পাত্র বলেন, “দেশের প্রায় ৮০টি আসনে সংখ্যালঘু ভোটাররা জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখলেও রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে আমাদের দাবিগুলোর প্রতিফলন নেই।”
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শামসুল বাসিত শেরো অভিযোগ করেন, গত ১৫ মাসে সিলেটে কোনো বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়নি এবং সংখ্যালঘুদের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আবদুল করিম কিম বলেন, “দেশে এখন সুফিবাদীরাও সংখ্যালঘু হয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন।”
এডকো-এর প্রধান নির্বাহী লক্ষীকান্ত সিংহ রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, প্রধান দলগুলোর কর্মসূচি বা ইশতেহারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়ে শক্তিশালী কোনো প্রতিশ্রুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইকবাল সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, ডিকন নিঝুম সাংমা, অনিলজয় ডিকার, হিলদা মুকিম প্রমুখ। বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি জানান যে, ২০২৬-এর আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যেন কোনো নাগরিককে তার ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে ভীতি বা বৈষম্যের শিকার হতে না হয়।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: