সিলেট-আখাউড়া রেলপথে বাড়ছে আতঙ্ক ও দুর্ভোগ
Led Bottom Ad

জোড়াতালির রেললাইনে ‘মৃত্যুফাঁদ’

সিলেট-আখাউড়া রেলপথে বাড়ছে আতঙ্ক ও দুর্ভোগ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১১/০৫/২০২৬ ১১:০০:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত শতবর্ষী সিলেট-আখাউড়া রেলপথ এখন যাত্রী ও পর্যটকদের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরাজীর্ণ লাইন, মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন আর ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে এই রুটে ট্রেন চলাচল ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসেই অন্তত চারটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা এবং ৩০টিরও বেশি ট্রেন বিলম্বের ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীরা। লক্কর-ঝক্কর ইঞ্জিন আর নড়বড়ে অবকাঠামোর কারণে প্রতিদিন এই রুটে যাতায়াতকারী প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পথ চলতে হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৮৯৮ সালে আসাম ও চট্টগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে এই রেলপথ নির্মিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময়েও আধুনিকায়ন না হওয়ায় পুরাতন ২৬১০ বা ২৯০২ নম্বরের ইঞ্জিনগুলো লাউয়াছড়ার মতো পাহাড়ি এলাকায় উঠার সময় প্রায়ই বিকল হয়ে যায়। গত ২৬ মার্চ ভৈরবে বগি লাইনচ্যুত হওয়া, ৩১ মার্চ ভানুগাছে ইঞ্জিন বিকল, ১ এপ্রিল কুমিল্লায় উদয়ন এক্সপ্রেসের বগি বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ২ এপ্রিল মনতলায় তেলবাহী ট্রেনের ৫টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনাগুলো এই রুটের জরাজীর্ণ অবস্থারই প্রমাণ দেয়। এছাড়া লাইনের অন্তত ১০টি সেতু বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যেখানে ট্রেনের গতি কমিয়ে চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় ইঞ্জিনের ঘাটতি থাকায় পুরাতন ইঞ্জিন দিয়েই কোনোমতে শিডিউল রক্ষা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) আহমেদ মাহবুব চৌধুরী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সমস্যার আধিক্য নিয়ে তাঁরা খোঁজখবর নিচ্ছেন। অন্যদিকে, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান জানান, ইঞ্জিনের ৭০ শতাংশ যোগান থাকায় সমস্যা হচ্ছে এবং আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের আশা করছেন তিনি। এছাড়া পূর্বাঞ্চলের রেললাইন পুনর্বাসনের জন্য একটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে যা বাস্তবায়িত হলে এই রুটের দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad