মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত
জগন্নাথপুরে কৃষকের ৪০০ মণ ধান মওকুফ করলেন দুই ভাই
পাওনা আদায়ে যখন অনেকেই কঠোর অবস্থান নেন, তখন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষিদের ৪০০ মণ ধান মওকুফ করে মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই ভাই। এই মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন জগন্নাথপুর পৌরসভার বাড়ি জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক এম এ কাদির এবং তাঁর ছোট ভাই জগন্নাথপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মতিন।
জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার পিংলার হাওরে এই দুই ভাইয়ের মালিকানাধীন ১০০ বিঘা জমি স্থানীয় ২৯ জন কৃষক বর্গাচাষ করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বিঘায় চার মণ হিসেবে মালিকপক্ষকে মোট ৪০০ মণ ধান দেওয়ার কথা ছিল কৃষকদের। তবে চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে পিংলার হাওরের বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং অবশিষ্ট ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের অতিরিক্ত ব্যয় ও পরিশ্রম করতে হয়। কৃষকদের এই দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে গত শনিবার (৯ মে) বিকেলে নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ৪০০ মণ ধান মওকুফের ঘোষণা দেন এম এ মতিন। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এম এ কাদির বলেন, "জলাবদ্ধতায় কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাঁদের কষ্টের কথা ভেবেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে অন্য জমির মালিকরাও বর্গাচাষিদের প্রতি সদয় হওয়ার অনুপ্রেরণা পান।"
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পিংলার হাওরে ৪০০ মণ ধান মওকুফ করার ঘটনাটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের অন্যান্য জমির মালিকরা এভাবে কৃষকদের পাশে দাঁড়ালে ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষিরা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাবেন। বর্গাচাষি সৈয়দ মিয়াসহ স্থানীয় কৃষকরা এই অভাবনীয় সহায়তায় দুই ভাইয়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: