সুনামগঞ্জে বছরের রেকর্ড বৃষ্টি, সড়ক ডুবে যোগাযোগ বিঘ্নিত

সুনামগঞ্জে বছরের রেকর্ড বৃষ্টি, সড়ক ডুবে যোগাযোগ বিঘ্নিত

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৯/০৭/২০২৬ ১৫:৫০:২০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

উজান থেকে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢল ও গত দুদিন ধরে চলা অবিরাম বর্ষণে সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় চলতি বছরের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দ্রুত বাড়ছে জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি। ইতিমধ্যে দিরাই উপজেলার মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি শুরু করেছে।


সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জের সাথে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরের একমাত্র সংযোগ সড়কের শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে প্রায় ১২০ মিটার রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তীব্র স্রোতের কারণে এই সড়কে যান চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা যেকোনো সময় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া অবিরাম বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের নিচু এলাকা ও প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।


পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলার সবকটি পয়েন্টেই পানি দ্রুত গতিতে বিপৎসীমার দিকে ধাবিত হচ্ছে। সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৫১ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর ছাতক পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন তা বিপৎসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। এছাড়া লাউড়েরগড় ও শক্তিয়ারখলা সীমান্ত এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং বিশ্বম্ভরপুরের শক্তিয়ারখলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ সেন্টিমিটার পানি বাড়লেও তা এখনো বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস এবং উজানের বৃষ্টিপাতের ধারা বিশ্লেষণ করে পাউবো জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢল এবং স্থানীয় ভারী বর্ষণ আগামী দুদিন অব্যাহত থাকলে জেলার সুরমা, চেলা, খাসিয়ামারা ও যাদুকাটাসহ সবকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে মাঝারি মেয়াদের বন্যা পরিস্থিতির রূপ নিতে পারে। হাওরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী (২) এমদাদুল হক সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় যে ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, তা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। উজান থেকে ঢল আসা অব্যাহত রয়েছে এবং তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। নদী তীরবর্তী এবং হাওরাঞ্চলের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে তাঁদের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।

প্রীতম দাস/ আর আর

মন্তব্য করুন: