তাহিরপুরে ১৩ লাখ টাকার চোরাই ভারতীয় ফুচকা জব্দ

তাহিরপুরে ১৩ লাখ টাকার চোরাই ভারতীয় ফুচকা জব্দ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৮/০৭/২০২৬ ১৯:৩১:৪৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

তাহিরপুরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে নিয়ে আসা ৩ হাজার ৭০৮ কেজি (প্যাকেট) ভারতীয় ফুচকা জব্দ করেছে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল। উদ্ধারকৃত এই বিশাল চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লক্ষ ৯৭ হাজার ৮০০ টাকা।


​বুধবার (৮ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাহিরপুর থানাধীন উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আমবাড়ী সাকিনের গোলহাটি এলাকায় এক ঝটিকা অভিযানে এই বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালান চক্রের মূল হোতারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।


​ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে চোরাই পথে আসা একটি বড় চালান আমবাড়ী এলাকার একটি বাড়িতে মজুত করা হয়েছে এমন সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সাব্বির আহসানের নেতৃত্বে কনস্টেবল মনির হোসেন, এমরান হোসেন ও কাউছার আহমদসহ ডিবির একটি চৌকস টিম স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত মিয়ার বসতবাড়িতে হানা দেয়।


​সেখানে শাহাদাত মিয়ার বসতঘরের দক্ষিণের একটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা সর্বমোট ৩৭০৮ কেজি ভারতীয় ফুচকা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত প্রতি কেজি ফুচকার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৫০ টাকা হিসেবে মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২,৯৭,৮০০/- টাকা।


​অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে চম্পট দেয় চিহ্নিত চোরাকারবারিরা। এ ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে মামলার প্রস্তুতি চলছে।


​এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিরা হলেন, হলপন,  শাকিল (৪৫), মিলন মিয়া (২৭), ফরিদ মিয়া (৪০),  শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং আল আমিন (৪০)। পুলিশ জানিয়েছে, এরা সবাই স্থানীয় চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য।


​অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা জেলা ডিবি পুলিশের এসআই সাব্বির আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চোরাচালানের সুনির্দিষ্ট অপরাধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশের টিম কাজ করছে।


​সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত জেলায় চোরাচালান, মাদক ও সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। অপরাধ ও চোরাকারবারিদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধ দমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রীতম দাস/অথৈ

মন্তব্য করুন: