শাল্লায় হাওরের চলন্ত নৌকায় তরুণীর শ্লীলতাহানি, কুচক্রী মাঝি গ্রেপ্তার

শাল্লায় হাওরের চলন্ত নৌকায় তরুণীর শ্লীলতাহানি, কুচক্রী মাঝি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৮/০৭/২০২৬ ১৬:৫০:০৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লায় হাওরের মধ্যে চলন্ত নৌকায় এক তরুণীকে (২০) জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত লম্পট নৌকা মাঝি হেলিম মিয়াকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে।


​গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার কান্দিগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হেলিম মিয়া উপজেলার ৪নং শাল্লা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের রাজধর মিয়ার ছেলে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।


মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই তরুণী ঢাকা থেকে শাল্লায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন। গত সোমবার তিনি কান্দিগাঁও নৌকাঘাটে পৌঁছালে হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। ঘাটের একটি টং দোকানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর নিয়মিত যাত্রীবাহী (সিরিয়ালের) নৌকা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি উপজেলার সদরে আসার জন্য হেলিম মিয়ার ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি রিজার্ভ (ভাড়া) করেন।


​নৌকা ছাড়ার আগমুহূর্তে পিন্টু দাস নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি শাল্লা যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওই নৌকায় উঠতে চান। প্রথমে মাঝি হেলিম অস্বীকৃতি জানালেও পরে বিশেষ শর্তে ৫০ টাকা ভাড়ায় তাকে নৌকার পেছনের অংশে বসার অনুমতি দেয়।


​নৌকাটি কান্দিগাঁও ঘাট ছেড়ে জনমানবহীন ‘কান্দখলার হাওর’ এলাকায় পৌঁছামাত্রই মাঝির কুদৃষ্টি পড়ে তরুণীর ওপর। নৌকার ভেতরে তরুণীকে একা পেয়ে মাঝি হেলিম মিয়া ইঞ্জিন চালু অবস্থায় আচমকা ভেতরে ঢুকে ওই তরুণীর শ্লীলতাহানি করে এবং জোরপূর্বক শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। এসময় তরুণী আত্মরক্ষার্থে চিৎকার শুরু করলে নৌকার পেছনে থাকা যাত্রী পিন্টু দাস দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং মাঝিকে ধমক দিয়ে লম্পট হেলিমের কবল থেকে তরুণীকে উদ্ধার করেন।


ভুক্তভোগী তরুণী জানান, হাওরের মাঝে একা পেয়ে মাঝি আমার ওপর নির্যাতন চালায়। পিন্টু দাদা এগিয়ে এসে আমাকে রক্ষা করেন। এরপর আমি মোবাইল ফোনে শাল্লায় থাকা আমার আত্মীয়দের বিষয়টি জানালে মাঝি ক্ষিপ্ত হয়ে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয় এবং আমাদের শাল্লায় নিয়ে আসতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে যাত্রী পিন্টু দাসের তীব্র প্রতিবাদ ও চাপের মুখে সে পুনরায় নৌকা চালু করে শাল্লা গুদাম ঘাটে আসতে বাধ্য হয়। ততক্ষণে ঘাটে আমার আত্মীয় ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে আমরা উদ্ধার পাই।


​এদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে মামলার প্রধান সাক্ষী ও উদ্ধারকারী যাত্রী পিন্টু দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।


শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকিবুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নৌকার ভেতরে তরুণীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে শাল্লা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে (মামলা নং-০৬)।


​ওসি আরও জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হেলিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। আজ বুধবার সকালে তাকে বিজ্ঞ সুনামগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। হাওর অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে।

প্রীতম দাস/ ডিডি

মন্তব্য করুন: