সামা’র হাত ধরে সিলেট সীমান্তে ধানের শীষের জোয়ার
'আমি রাজনীতির মানুষ নই,বুঝিও না। স্রেফ আর দশ জন নারীদের মতো একজন গৃহিনী ছিলাম। কিন্তু আমি আজ ছোটে এসেছি আপনাদের কাছে। দাবি নিয়ে,অধিকার নিয়ে। এই দাবি এবং অধিকার আপনারাই আমাকে দিয়েছেন। কারণ-আমার স্বামী প্রথম জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর থেকে প্রায় দুই যুগ সেবা করেছেন মানুষের। আমি কিংবা আমার পরিবারে তার অনুপস্থিতি থাকলেও, আপনাদের কাছে তিনি ছিলেন সরব। আমিও কোনদিন সেই অনুপস্থিতি বোধ করিনি। কারন-উনার মমতাময়ী মা এবং আমিও চেয়েছি-তিনি সব সময় যেন মানুষের পাশে থাকেন।'
সিলেট-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সিসিকের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে এভাবেই জনগণের সামনে উপস্থাপন করছেন স্ত্রী সামা হক চৌধুরী। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে স্বামীর জন্য নির্বাচনী প্রচারে এখন তিনি বেশ সরব। বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন নারী ভোটারদের। তাদের সাথে বৈঠক করছেন। স্বামীর জন্য দো'আ ও সহযোগীতা চাইছেন। সামা হকের আবেগাপ্লুত বক্তব্যে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নারীরাও সাহস পাচ্ছেন-যোগাচ্ছেন সাহস। ফলে নারী ভোটারদের কাছে তিনি ধানের শীষের জন্য এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি করছেন-এমনটি বলছেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের লোকজন।
বিভিন্ন সভায় তাঁর বক্তব্যগুলো মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করছে। স্বামী আরিফুল হক চৌধুরী সম্পর্কে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন-'এমনও গেছে,রাতে একসাথে ঘুমেয়েছি। রাত গভীরে ঘুম ভাঙতেই দেখি তিনি পাশে নেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি,তিনি নগরীর বন্যাক্রান্ত এলাকায় চলে গেছেন। রাত ১০ টায় বাসা থেকে বের হয়ে এমনও হয়েছে যে, তিনি পরদিন ভোরে বাসায় ফিরেছেন। কারণ, নগরীতে মধ্যরাতে আগুন লেগে গেছে। ঘরে বৃদ্ধা মা শুয়ে আছেন-ছেলে কখন বাসায় ফিরবে? কতোরাত, কতোদিন বৌ-শ্বাশুরির প্রতিক্ষার প্রহর কেটেছে এভাবে! তবে তাঁর এই অনুপস্থিতিতেও আমরা কোনদিনই বিচলিত হইনি। একসময় বিষয়টি আমাদের গা সওয়া হয়ে যায়।'
স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীর বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিশ্চিতের পর থেকে বসে নেই স্ত্রী সামা হক চৌধুরী। তিনি প্রতিদিনই সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরের বিভিন্ন স্থানে বৈঠক করে চলছেন বিরামহীনভাবে। প্রচারবিমুখ সামা চৌধুরী স্বামী আরিফুল হকের ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেও কখনও গণমাধ্যমে শিরোনাম হতে আসেন নি। তবে সামা হকের ঘনিষ্টজনেরা জানিয়েছেন, তিনি নিভৃতচারী এক সৃজণশীল চিন্তার মানুষ। স্বামীর প্রতিটি নির্বাচনে তার প্রচার কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য ছিল। স্বামীর মতো তিনিও ভালোবাসেন মানুষের সান্নিধ্য। ভালোবাসেন কাজ। কাজের তাগিদ থেকেই তিনি আজ সিলেটের একজন সফল উদ্যোক্তা। শ্যামা হক চৌধুরী সিলেটে নারীদের বৃ্হৎ ব্যবসায়ী সংগঠন সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনে সর্বাধিক ভোট প্রাপ্ত হয়ে পরিচালক নির্বাচিত হন।
গেল ক’দিনে কোম্পানীগঞ্জে ভোটারদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সভায় সামা হক বলেন, ‘আজ আমরা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়েছি। প্রতিটি ভোট কেবল একটি কাগজের টুকরো নয়—এটি আমাদের স্বপ্ন, আমাদের আশা এবং আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি। আমরা যদি একসাথে মিলিত হই, আমরা গড়তে পারি এমন একটি দেশ যেখানে প্রতিটি মানুষ তার মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং সুযোগের অধিকার পাবে।’
আপনার ভোটই আমাদের সমাজের শক্তি। এটি আমাদের গ্রামের শিশুর হাসি, শহরের বয়স্ক মানুষের শান্তি, আমাদের চাষীর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করার কূপমণি। আপনার একটিমাত্র ভোট পরিবর্তন আনতে পারে—আপনার চারপাশের মানুষদের জীবনকে, আপনার শহরকে, এবং সমগ্র দেশের ভবিষ্যতকে।
আজ ভোট দিন কেবল দায়িত্ব পালন করতে নয়, বরং আপনার হৃদয় থেকে জন্ম নেওয়া আশা ও ভালোবাসার বার্তা প্রেরণ করুন। আমাদের দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়ার শক্তি আপনার হাতেই আছে। আপনার ভোট, আমাদের ভবিষ্যৎ।
এদিকে স্বামীর বিজয়ের ব্যাপারে আশা প্রকা্শ করে সামা হক চৌধুরী প্রথম সিলেট কে বলেন-ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার ভোটারদের। আমার বিশ্বাস এবং ভরসা সেই জনগণের প্রতি। জনগণ চায় এলাকার উন্নয়ন। তবে সেটা শুধু অবকাঠামোগত নয়-বরং একটি মডেল জনপদ গড়ে তোলার উপযোগী সবকিছুই যার মাধ্যমে পাল্টে যেতে পারে। সেই হিসেবে কাজপাগল মানুষ আরিফুল হক চৌধুরীকেই ভোটাররা বেছে নেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। এ সময় তিনি আরও বলেন,দীর্ঘ সংগ্রাম,ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে আজকের আরিফুল হক চৌধুরী। জাতীয়তাবাদী রাজনীতি যার শরীরে প্রবাহমান। ফলে সিলেটবান্ধব মরহুম মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের হাত ধরে উন্নয়নের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলার মার্টির লুথার কিং খ্যাত বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আই হেভ এ্যা প্ল্যান বাস্তাবায়নে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: