নবীগঞ্জে শতাধিক দোকানপাট ভাঙচুর, নিহত ১ : ১৪৪ ধারা জারি
Led Bottom Ad

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টানা ৪ দিন রণক্ষেত্র

নবীগঞ্জে শতাধিক দোকানপাট ভাঙচুর, নিহত ১ : ১৪৪ ধারা জারি

নিজস্ব প্রতিনিধি., নবীগঞ্জ

০৭/০৭/২০২৫ ২৩:১৭:২৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টানা চারদিন ধরে রণক্ষেত্র নবীগঞ্জ শহর। রণক্ষেত্রের দু’পক্ষের সংঘর্ষে নবীগঞ্জ বাজারের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি হাসপাতাল, যানবাহন ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় নিহত হয় ১ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন আজ সোমবার নবীগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তি উপজেলার পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের ফারুক মিয়া (৪২)। তিনি পেশায় এম্বুলেন্স চালক ছিলেন। 


পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার পূর্ব তিমিরপুর এবং আনমনু গ্রামবাসীর মধ্যে নবীগঞ্জ শহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই নিয়ে পূর্ব ঘোষণা দিয়ে আজ সোমবার পূর্ব তিমিরপুর এবং আনমনু গ্রামবাসীর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে নবীগঞ্জ শহরে আশপাশের নোয়াপাড়া, রাজাবাদ এবং পশ্চিম তিমিরপুর ও চরগাঁওয়ের নারী-পুরুষ দুই পক্ষের হয়ে সংঘর্ষে জড়ান।


জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুদিন ধরে হামলা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (০৪ জুলাই) রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তখন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে শহরের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

পরদিন শনিবার (০৫ জুলাই) সকাল থেকে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আনমুনু গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নবীগঞ্জ শহর ও আনমনু পয়েন্টে জড়ো হতে থাকলে আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। এক পর্যায়ে শহরে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। রোববার (০৬ জুলাই) সকালে ও রাতে সংঘর্ষ ও চোরাগুপ্তা হামলা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকপাট ভাঙচুরও করা হয়।


এর জের ধরে আজ সোমবার সকালে উভয় গ্রামের লোকজন প্রস্তুতি নিয়ে সভা করে। বিকেল ৩টার দিকে ঘোষণা দিয়ে উভয় গ্রামের কয়েকশ’ মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে নবীগঞ্জ শহরের আশপাশের আনমনু গ্রামের পক্ষ নেয় নোয়াপাড়া, রাজার বাজার এবং পূর্ব তিমিরপুরের পক্ষ নেয় পশ্চিম তিমিরপুর ও চরগাঁও গ্রামের নারী-পুরুষ। দুই পক্ষের হাজারও মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে শহরে শতাধিক দোকান পাট ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া হয়।


স্থানীয় ইউনাইডেট হসপিটাল নামে প্রাইভেট হাসপাতালে ভাঙচুর, মাছ বাজার, হোটেলে ভাঙচুর লুটপাট করা হয়েছে। এ সময় এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় শহরজুড়ে। সেনাবাহিনী, পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।


স্থানীয় সূত্র জানায়, ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি আনমনুর আশাহিদ আলী আশার সঙ্গে তিমিরপুরের খসরু মিয়া তালুকদারের বিরোধের জেরে উত্তেজনা চলছিল। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দু’পক্ষ নিজ নিজ এলাকায় সভা করে। এরপর সোমবার বিকেলে নবীগঞ্জ শহরের গাজীরটেক পয়েন্টে সংঘর্ষ শুরু হয়।


নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান জানান, আমরা বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি। সংঘর্ষ ও লুটপাটের বিষয়ে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। তবে পুরো বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। শহরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad