সিলেটে রাতের কেনাকাটা বন্ধ, পর্যটক–কর্মজীবীদের দুর্ভোগ
সিলেটে রাত সাড়ে ৯টা থেকে সব দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ কার্যকর হওয়ায় কর্মজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। বাজার করা ও নিত্যপ্রয়োজনে কেনাকাটার সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, হঠাৎ পরিবর্তনে বিক্রি কমে গেছে। এ অবস্থায় সময়সীমা আরও এক ঘণ্টা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
রাজা ম্যানশনের একটি লাইব্রেরিতে কাজ করেন শাহজাহান মিয়া। প্রতিদিন ডিউটি শেষে রাত সাড়ে ৯টার পর বাড়ি ফেরেন তিনি। আগে বাসায় ফেরার পথে বাজার-সদাই করে যেতেন। কিন্তু গত দুই দিন হাতে কিছুই নিয়ে ফিরতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘দোকান বন্ধ করে বের হলেই দেখি সব বাজার বন্ধ। না বাজার করতে পারছি, না শিশুর জিনিসপত্র কিনতে পারছি।’
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান জল্লারপাড়ের দর্জিশিল্পী সিরাজ মিয়া। আগে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকত তাঁদের দোকান। এখন মালিক সাড়ে ৯টায় বন্ধ করে দেন। সিরাজ মিয়ার ভাষায়, ‘আমরা বের হতেই দেখি সব বন্ধ। বাজার করার সুযোগ নেই। এতে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে পড়েছি।’
স্বল্প আয়ের মানুষদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও বিক্রি কমে যাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সিলেট জেলা দোকান মালিক সমিতি বিষয়টি পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে জানায়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়—ফার্মেসি, রেস্তোরাঁ, হোটেল ও মিষ্টির দোকান ছাড়া সব ব্যবসা রাত সাড়ে ৯টার পর বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে পর্যটক, চাকরিজীবী ও দোকানের কর্মীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। শিশুপণ্যসহ জরুরি সামগ্রী কেনার সুযোগ থাকে না। দরগাহ এলাকা ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো রাতে জমজমাট থাকে, কিন্তু দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকরা কেনাকাটা করতে পারছেন না।এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মুদি দোকান, কাঁচাবাজার এবং দরগাহ এলাকার দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি চান।
সিলেট উইমেন চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলেয়া ফেরদৌসি তুলি বলেন,‘সিলেটের অধিকাংশ দোকান সকাল ১০টা–১১টার দিকে খোলে। তাই সাড়ে ৯টায় বন্ধের সিদ্ধান্ত অনেককে বিপাকে ফেলছে। অন্তত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া উচিত।’
সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক বলেন,‘শহরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু সিদ্ধান্তটি যেন ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে, সেটিও দেখা জরুরি।’
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, ‘ যে কারণে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ রাত সাড়ে ৯ টায় দোকান-পাট বন্ধের ঘো্ষণা দিয়েছেন,নি:সন্দেহে সেই পদক্ষেপ সিলেটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার সহায়ক। তবে এক্ষেত্রে কিছু ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন-এটি অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। তাছাড়া, সিলেটের মানুষ সকালে দেরিতে দোকান খোলার বিষয়টিও আমলে নেওয়া উচিত। এর ফলে চাকুরীজীবী ও শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের মানুষ জন নি:সন্দেহে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা মেট্রোপলিটন পুলিশের এই সিদ্বান্তকে ইতিবাচক ভাবে বিবেচনায় রাখছি। তবে এ ক্ষেত্রে সময় আরও এক ঘন্টা সময় বর্ধিত করা হলে,সকলের জন্য সেটি হবে গ্রহণযোগ্য এবং স্বস্তির।
’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়—শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ,রাতের নিরাপত্তা জোরদার ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নগর পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত
ব্যবসায়ী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা শেষে ৭ ডিসেম্বর থেকে নির্দেশনা কার্যকর হয়। হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ওষুধের দোকান এ নির্দেশনার বাইরে রাখা হয়েছে।
রাত সাড়ে ৯টায় দোকান বন্ধ রাখার ফলে পর্যটক, চাকরিজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করে ব্যবসায়ীরা সময় আরও এক ঘণ্টা বাড়ানোর জন্য সিলেট মহানগর পুলিশের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: