থানার ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
জকিগঞ্জের শরিফগঞ্জে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি
জকিগঞ্জ উপজেলার শরিফগঞ্জ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে ক্ষোভ ফেটে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। সম্প্রতি চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও সীমান্তপথে অবৈধ প্রবেশ বৃদ্ধির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। এসব পরিস্থিতির প্রতিবাদে বৃহত্তর শরিফগঞ্জবাসীর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় শরিফগঞ্জ বাজারে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন—একাধিক চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিশেষ করে আমলশিদ গ্রামের ডা. বিভাকর দেশ্যমুখ ও গোবিন্দ বাবুর বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার কোনও অগ্রগতি নেই। ভারত সীমান্তসংলগ্ন এই এলাকায় অবৈধভাবে মহিষ আনা, মাদক পাচার এবং ইয়াবা সেবন-বিক্রি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
বক্তারা বলেন, “মাদকসেবীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নাটকীয়ভাবে একজন-দু’জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে গেছে।” তারা আরও জানান, এলাকার নিরাপত্তা এমন পর্যায়ে নেমে এসেছে যে সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি নিয়েও উদ্বিগ্ন—এমনকি বাড়ির সুপারী পর্যন্ত চুরি যাচ্ছে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শরিফগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী উসমান গনি এবং পরিচালনা করেন কাওছার আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজসেবক আহমেদ মুমিন। এতে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-রাজনীতিবিদ আছাদ আহমদ, ইউপি সদস্য আবুল কালাম, নূরুল ইসলাম মজনু, ব্যবসায়ী শাহেদ আহমদ, আব্দুল হান্নান, সাহেদ আহমদ, দেলোয়ার হোসেন দুলুসহ অনেকে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা পুলিশকে সময় দিয়েছি। এবারও যদি পরিবর্তন না আসে, তাহলে থানা ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।” তারা জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে থাকারও আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, “চুরি-ডাকাতি কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। অপরাধী যে-ই হোক—অপরাধই অপরাধ। হিন্দু-মুসলিম সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: