আয়া স্বপ্না বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ
সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের সরকারি ভূমি দখল করে গরুর ফার্ম
সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের সরকারি ভূমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ ও গবাদিপশুর ফার্ম গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিকের আয়া পদে কর্মরত স্বপ্না বেগমের বিরুদ্ধে। প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি ক্লিনিকের প্রায় ১৫ শতক জমি দখলে রেখে বসবাস করছেন এবং গত ১০ বছর ধরে সেখানে অস্ট্রেলিয়ান গরুর ফার্ম পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়—উক্ত জমিতে বসবাসের জন্য দু’টি বড় ঘর এবং আরও দু’টি ঘর গরুর ফার্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফার্মে ছোট-বড় মিলে প্রায় ১২টি গরু রয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা।
স্থানীয়রা জানান, অবৈধ ফার্মের কারণে গোবরের দুর্গন্ধে পথচারী, বিশেষ করে স্কুল–কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আবেদ ও মিজান বলেন, “স্কুলে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় তীব্র দুর্গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এটি পরিবেশের জন্য বড় হুমকি।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি ভূমিতে আয়ার এমন দখলদারিত্ব বহু বছর ধরে সকলের চোখের সামনে হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
অভিযুক্ত স্বপ্না বেগম দাবি করেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও সিলেট জেলা সিভিল সার্জনের মৌখিক অনুমতি নিয়েই তিনি ঘর নির্মাণ ও গরুর ফার্ম করেছেন। তিনি বলেন, “গরু পালন করি নিজের দুধের প্রয়োজনেই; ব্যবসার উদ্দেশ্যে নয়।” তবে স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, তিনি নিয়মিতই দুধ বিক্রি করেন।
এদিকে ক্লিনিকের একজন রোগী জানান, তারা স্বপ্না বেগমের ফার্ম থেকেই দুধ কিনে থাকেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাছির উদ্দিন জানান, “অবৈধভাবে ঘর বা গরুর ফার্ম নির্মাণের বিষয়ে আমি অবগত নই।” তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও গত এক মাসেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহল মনে করেন, একজন ক্লিনিক আয়ার পক্ষে সরকারি জমি দখল করে বহু বছর ধরে ঘর-বাড়ি ও গরুর ফার্ম পরিচালনা করা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: