মহানগর বিএনপিতে সভাপতি প্রশ্নে বাড়ছে দ্বন্দ্ব, সমাধান নেই
সিলেটের রাজনীতিতে এখন শুধু একটাই আলোচনা—মহানগর বিএনপিতে দুই সভাপতির মহা নাটক! এ যেন রীতিমতো টিভির রাজনৈতিক থ্রিলার সিরিয়াল। এক বিজ্ঞপ্তি আসে, আরেকটি তাকে উল্টে দেয়। সঙ্গে যোগ হয় গুঞ্জন, উত্তেজনা, আর দলীয় কার্যালয়ে টানটান স্নায়ুচাপ।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি আসে। এতে বলা হয়, নাসিম হোসেইনের পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই সিলেটের রাজনৈতিক পরিবেশ যেন বিদ্যুতের মতো টনকে ওঠে।
নেতা-কর্মীদের মুখে বিস্ময়, আর ফিসফাস—“তাহলে কি নাসিম আবার সভাপতি?”মহা মোড়-‘ভুল হয়েছে!’ কিন্তু নাটকের প্রকৃত মোড় আসে কয়েক ঘণ্টার মাথায়। আসে আরেকটি সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি—আগের বিজ্ঞপ্তি নাকি ভুল ছিল! অর্থাৎ নাসিমের স্থগিতাদেশ আদৌ ছিল না—তাহলে উঠল কী, উঠল কেন—দলীয় অঙ্গনে নতুন ঘূর্ণি।
এরপর নাসিম হোসাইন দৃঢ়কণ্ঠে জানান,‘আমিই নির্বাচিত সভাপতি। আমার পদ কখনো স্থগিত হয়নি। আমি দায়িত্বেই আছি।’
অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সরাসরি পাল্টা সুরে—“পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নাসিমকে রাখা হয়নি। সুতরাং সভাপতি তিনি নন—আমি-ই দায়িত্বে আছি।”
এমন দাবিদাওয়া আর পাল্টা বক্তব্যে দলীয় মহলে সৃষ্টি হয়েছে দারুণ ধোঁয়াশা। কার্যালয়ে, বৈঠকে, ফোনালাপে—একটাই প্রশ্ন ছড়াচ্ছে আগুনের মতো—“সভাপতি কে আসলে? নাসিম না লোদী?”
এক বছরের পুরোনো সংকট ঘনীভূত হয়ে এখন যেন শীর্ষবিন্দুতে। একটি ভুল বিজ্ঞপ্তি পুরো মহানগর বিএনপিকে নেড়ে দিয়েছে—চেয়ার থেকে মঞ্চ পর্যন্ত।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: