ওসমানীনগরে পাঠদান বন্ধ রেখে বিদ্যালয়ে জামায়াতের প্রচার ক্যাম্প
Led Bottom Ad

ওসমানীনগরে পাঠদান বন্ধ রেখে বিদ্যালয়ে জামায়াতের প্রচার ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিনিধি, ওসমানীনগর

২৭/১০/২০২৫ ২০:০৯:১৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের ওসমানীনগরে কোন রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে জামায়াতে ইসলামীর দিনব্যা্পী প্রচারক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। ঘটনাটি ঘটে সোমবার ২৭ অক্টোবর উপজেলার তাজপুর মঙ্গলচন্ডি নিশিকান্ত সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। ওইদিন বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান বন্ধ রেখে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জন্য ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।


ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যানারে ইবনে সিনা হাসপাতালের নাম লেখা থাকলেও, ক্যাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। সকাল ১০টায় দিনব্যাপী ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য, সিলেট জেলা নায়েবে আমির এবং সিলেট-২ (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইবনে সিনা হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার অবসরপ্রাপ্ত মেজর ডা. আব্দুস ছালাম চৌধুরী, হেড অব মার্কেটিং এ.জি.এম. উবায়দুল হকসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা।


এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ক্যাম্পের বিষয়ে আগে কিছুই জানতেন না। নিয়মিত ক্লাস করতে এসে দেখেন শ্রেণিকক্ষগুলো চিকিৎসা সেবার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সেদিনের পাঠদান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।


বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের বিষয়ে তারা আগেভাগে কোনো তথ্য পাননি। নিয়মিত ক্লাসে এসে দেখেন, শ্রেণিকক্ষগুলো দখল করে চিকিৎসা সেবা চলছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুরো ভবনজুড়ে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পুরোপুরি বন্ধ থাকে এমনকি নেতৃবৃন্দের অনেকই দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান।


শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রেখে এই ধরনের কার্যক্রম আয়োজন শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে। তবে আয়োজক পক্ষ দাবি করেছে, সমাজের অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এ ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ গ্রহণ করেছেন।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদ হাসান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতি থাকায় আমরা এই ক্যাম্প আয়োজনের অনুমতি দিয়েছি। সমাজের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন আয়োজন শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে।


তাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ বলেন, ‘ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সেবামূলক উদ্যোগ হলেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ রেখে তা করা সরকারি নীতির পরিপন্থী।’


উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ছোহরাব আলী জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতিতেই ক্যাম্পটি হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত ছিল।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ক্লাস চালু রেখে মেডিকেল ক্যাম্পের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। ক্লাস বন্ধ ছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।’


স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করেন, সরকারি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখে এ ধরনের আয়োজন অনুচিত। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ক্ষতি ঠেকাতে প্রশাসনিক পর্যায়ে কঠোর নজরদারি জরুরি।

রোদ্দুর রিফাত

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad