শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে জকিগঞ্জের দুই সরকারি বিদ্যালয়
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চ (বালক) বিদ্যালয় ও জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়—দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ শিক্ষক সংকট ও নানা সমস্যায় জর্জরিত। শিক্ষার মানে মারাত্মক অবনতি হওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদটি ২০১৬ সাল থেকে শূন্য। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও একইভাবে দীর্ঘদিন ধরে খালি। গণিত ও ইংরেজির তিনটি করে অনুমোদিত পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন করে শিক্ষক। বিজ্ঞানের কোনো শিক্ষকই বর্তমানে বিদ্যালয়ে নেই। সহকারী শিক্ষক সৃষ্ট ১৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। ২৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৯ জন শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। এর মধ্যে ২ জন শিক্ষক বিএড প্রশিক্ষণে থাকায় শ্রেণি কক্ষে কার্যত শিক্ষক সংকট তীব্র হয়েছে। দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষকও নিয়মিত বিদ্যালয়ে অবস্থান না করে সিলেটে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় ভেঙে পড়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে একাধিক শাখা একত্র করে গাদাগাদি করে পাঠদান চলছে। এর প্রভাব পড়েছে ফলাফলেও। ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া ১৭০ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৮৩ জন। পাশের হার ৪৮ শতাংশে নেমে আসে।
অভিভাবকরা বলেন, “প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
তারা জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক সংকট নিরসন, প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ এবং শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিলেটের উপ-পরিচালক ও জেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: