সিলেটে স্কলার্সহোম শিক্ষার্থীর মৃত্যু : আন্দোলনের মুখে তিন শিক্ষককে অপসারণ
Led Bottom Ad

সিলেটে স্কলার্সহোম শিক্ষার্থীর মৃত্যু : আন্দোলনের মুখে তিন শিক্ষককে অপসারণ

প্রথম ডেস্ক

২২/০৯/২০২৫ ২৩:০৯:০৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের বেসরকারি বিদ্যাপীঠ স্কলার্সহোমের শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী আজমান আহমেদ দানিয়ালের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ৫ দফা দাবি ও ৬টি সংস্কার প্রস্তাব মেনে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন শাহী ঈদগাহ শাখার অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মুনীর আহমেদ কাদেরী (অব.)। তিনি জানান, স্কলার্সহোম পরিচালনাকারী হাফিজ মজুমদার ট্রাস্টের সভায় শিক্ষার্থীদের সব দাবি ও প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাইস প্রিন্সিপাল আশরাফ হোসেনসহ তিন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থী আজমানের মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীদের কাছে লিখিতভাবে দাবি মানার নিশ্চয়তা আসে। এ সময় শিক্ষার্থী সায়েম হাসনাত সহপাঠীদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের ৫ দফা দাবি ও ৬ সংস্কার প্রস্তাব মেনে নেওয়া হয়েছে। ভাইস প্রিন্সিপাল আশরাফ হোসেন, শ্রেণি শিক্ষক শামীম হোসেন ও শিক্ষিকা তয়্যিবা বেগমকে অপসারণ করা হয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় কোনো শিক্ষার্থীকে হেনস্তা বা ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করা হবে না।”

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো ছিল অভিযুক্ত শিক্ষক-প্রশাসকদের অপসারণ, শিক্ষার্থীদের হেনস্তা বন্ধ, অভিভাবকদের সঙ্গে শালীন আচরণ ও শিক্ষার্থী বহিষ্কারের প্রথা বন্ধ এবং মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিতকরণ।


গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আজমান আহমেদ দানিয়াল (১৯)-এর মরদেহ সিলেট নগরীর বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ আত্মহত্যা বললেও, ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

আজমানের মৃত্যু ঘিরে সহপাঠী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির কিছু শিক্ষক ও প্রশাসনের খারাপ ব্যবহার, অদক্ষ শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার্থীদের সামান্য কারণে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রবণতা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপে ফেলে। আজমানের মা অভিযোগ করেন, প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করায় সন্তানকে প্রকাশ্যে অপমান ও ছাড়পত্র দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আজমানের দাফন শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলন শুরু হয়। টানা বিক্ষোভের মুখে অবশেষে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেয় স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষ।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad