ক্যান্সারের কাছে পরাজিত হলেন লাখাইয়ের সেই হেলেনা
"আল্লাহ আমাকে বাঁচান, আমি বাঁচতে চাই। আমার মা-বাবা কেউ নেই, আমাকে বাঁচান"- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) এই আকুতি জানিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা ক্যান্সার আক্রান্ত হেলেনা আক্তার অবশেষে পরাজিত হলেন মরণব্যাধির কাছে। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামে খালার বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১৮ বছর।
হেলেনা আক্তার লাখাই উপজেলার পূর্ব সিংহ গ্রামের কালাই মিয়া ও লালি বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিলেন। তবে জন্মের আগেই তিনি বাবাকে হারান, আর মাত্র চার বছর বয়সে হারান মাকেও। এরপর মামা-মামির আশ্রয়ে বেড়ে উঠেছিলেন তিনি।
তরুণ বয়সে জীবন যখন নতুন স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিল, তখনই হঠাৎ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন হেলেনা। পরিবারের পক্ষে সীমিত সাধ্যের মধ্যেও চিকিৎসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর, দেশ-বিদেশের অনেক সহৃদয় মানুষ এগিয়ে এসেছিলেন তার সহায়তায়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত চলে যেতে হলো তাকে।
হেলেনার মৃত্যুতে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল বাদ আসর নিজ গ্রাম সিংহগ্রামের ইয়াসিনিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এক অবুঝ এতিম মেয়ের জীবনসংগ্রাম ও আকুতি আমাদের সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়। ক্যান্সারের ভয়াবহতা এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর দায়বোধ আমাদের আরও মানবিক করে তুলবে- এটাই হোক হেলেনার প্রতি আমাদের সবার শ্রদ্ধাঞ্জলি।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: