টানা বৃষ্টিতে পানির বেগ বৃদ্ধি
জাফলংয়ের মায়াবী ঝর্ণা দেখতে ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের
তীব্র গরম আর অনাবৃষ্টির ক্লান্তি কাটিয়ে সিলেট অঞ্চলে দেখা মিলেছে টানা বর্ষণের। আর এই বৃষ্টির ছোঁয়ায় রূপের মহাসমাবেশ ঘটেছে সিলেটের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে। মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণাধারা আর পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলরাশিতে তৈরি হয়েছে এক অপরূপ আবহ। বিশেষ করে জাফলং জিরো পয়েন্টের ঠিক ওপারেই ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত 'মায়াবী ঝর্ণা' (যা অনেকের কাছে সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা নামে পরিচিত) ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা মায়াবী রূপ। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা দুধসাদা পানির স্রোত দেখতে এখন প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ঝর্ণার পানির বেগ বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোরম পরিবেশ। পিয়াইন নদীতে নৌকা ভ্রমণ আর মায়াবী ঝর্ণার হিমশীতল পানিতে গা ভেজাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
চট্রগ্রাম থেকে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে আসা জামাল আহমদ বলেন, কয়েক মাস ধরেই কাজের প্রচণ্ড চাপ ছিল। তীব্র গরম আর কোলাহল থেকে বাঁচতে জাফলংকে বেছে নিয়েছিলাম। এখানে এসে পিয়াইন নদীর ওপর মায়াবী ঝর্ণার এই রূপ দেখে সত্যি চোখ জুড়িয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি যখন পাহাড় থেকে আছড়ে পড়ছে, সেই দৃশ্য ও শব্দ অদ্ভুত এক মানসিক শান্তি দিচ্ছে।
পাহাড়ি ঝর্ণার এমন চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য মুগ্ধ করেছে স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা সব বয়সীদের। পরিবারসহ আসা তরুণী সুমাইয়া সিমু তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ফেসবুকে ভিডিও দেখে বাচ্চাদের নিয়ে আসলাম। ঝর্ণার কাছাকাছি যাওয়ার অনুভূতি দারুণ। তবে পাথরগুলো অনেক পিচ্ছিল, তাই একটু সাবধানে থাকতে হচ্ছে। প্রশাসন যদি এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আরও কিছু লাইফ জ্যাকেট বা রেলিংয়ের ব্যবস্থা করতো, তবে আরও নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়ানো যেত।
পর্যটকদের এই উপচে পড়া ভিড়ে মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।
নৌকাচালক নজরুল ইসলাম জানান, অনাবৃষ্টির সময় নদী শুকিয়ে যাওয়ায় আমাদের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পর্যটক আসছিল না বললেই চলে। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদী ও ঝর্ণায় পানি ফিরে এসেছে। এখন প্রতিদিন অনেক পর্যটক আসছেন, আমাদের নাও (নৌকা) চালানোও বাড়ছে। আশা করছি সামনে আরও পর্যটক আসবেন।
জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ তপন তালুকদার বলেন, টানা বৃষ্টিতে ঝর্ণার পানির স্রোত বাড়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। কোনো পর্যটক যাতে গভীর পানিতে বা বিপজ্জনক পাথুরে পিচ্ছিল জায়গায় না যান, সেজন্য নিয়মিত মাইকিং ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
প্রকৃতির এই নতুন রূপ দেখতে এবং যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে মায়াবী ঝর্ণা এখন ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য অন্যতম সেরা গন্তব্য।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: