তাহিরপুরে নদীপথে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগে নৌ ধর্মঘট শুরু
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় নদীপথে অতিরিক্ত টোল আদায় ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এতে কয়লা ও চুনাপাথরবাহী তিন শতাধিক নৌকা আটকা পড়েছে। বুধবার (১ জুলাই) থেকে পাটলাই ও যাদুকাটা নদীতে এই ধর্মঘট পালন করছেন নৌ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, উপজেলার পাটলাই নদীর কামালপুর ও যাদুকাটা নদীর ফাজিলপুর এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদারের লোকজন নির্ধারিত হারের চেয়ে দ্বিগুণ টোল আদায় করছেন। টাকা না দিলে বালু-পাথর ও কয়লাবাহী নৌকার শ্রমিকদের মারধর ও হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতি ও স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।
জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকায় পাটলাই নদীর ঘাটের ইজারা নিয়েছেন দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির মিয়া। শ্রমিকদের দাবি, গত জুন মাস পর্যন্ত প্রতি টনে ৩৪ টাকা হারে টোল নেওয়া হলেও জুলাইয়ের শুরু থেকে ৭০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া ‘কোটগারি’র নামে বিভিন্ন পয়েন্টে নৌকা প্রতি কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
তাহিরপুরের সিকশা গ্রামের নৌকার মাঝি তৈবুর রহমান বলেন, ‘গত মাসেও আমরা ৩৪ টাকা টোল দিয়েছি। এখন ইজারাদারের লোকজন ৭০ টাকা দাবি করছে। টাকা না দেওয়ায় আমাদের নৌকা আটকে রাখা হয়েছে।’ জামালগঞ্জের মাঝি আবদুল সালাম বলেন, নৌপথে বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদা দিতে দিতে মালিকের কাছে আমরা চোর সাজছি। আমরা এই হয়রানি থেকে মুক্তি চাই।
যাদুকাটা স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, ‘৩ দিনের ব্যবধানে টোল ৩৪ টাকা থেকে ৭০ টাকা করা হয়েছে। একটি নৌকা গন্তব্যে পৌঁছাতে বিভিন্ন স্থানে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এভাবে চললে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে।’
তবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইজারাদার নাছির মিয়া। তিনি বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত হারেই টোল আদায় করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ আমাকে প্রতি টনে ৭০ টাকা করে আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছে।’
বিআইডব্লিউটিএর সিলেট আঞ্চলিক দপ্তরের উপপরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘১ জুলাই থেকে সারা দেশে বিআইডব্লিউটিএর নতুন টোল হার কার্যকর হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতি টনে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে ইজারাদার অতিরিক্ত কোনো টাকা নিচ্ছেন না।’
শামসুল আলম আখঞ্জী / তানজুবা তাবাসসুম
মন্তব্য করুন: