দোয়ারাবাজারে দোকানঘর নির্মাণে বাঁধা, নিরাপত্তা চেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংবাদ সম্মেলন
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে নিজের মালিকানাধীন জমিতে দোকানঘর নির্মাণে বাধা, হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস ছোবহান।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছোবহান নিজেই।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুস ছোবহান জানান, সরকারি বিধিমালা মেনে প্রায় ৩৮ বছর আগে দোয়ারাবাজারের খেয়াঘাট এলাকার বাজিতপুর মৌজার ৪০৮ নম্বর খতিয়ানের ৮৯ জে.এল. নং-এর ৩৬ (সাবেক) দাগ এবং বর্তমান আরএস রেকর্ডের ১৪ নম্বর দাগভুক্ত ১৫ শতাংশ জমি বন্দোবস্তের মাধ্যমে তিনি বৈধভাবে মালিকানা লাভ করেন। এরপর থেকে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারি সব নিয়ম ও খাজনা-ট্যাক্স পরিশোধ সাপেক্ষে জমিটি তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি ওই জমিতে একটি সেমিপাকা দোকানঘর নির্মাণকাজ শুরু করলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান, মাওলানা আলী আমজদ, আব্দুল বাকী এবং এমরাজ মিয়াসহ কয়েকজন অন্যায়ভাবে তার কাজে বাঁধা প্রদান করেন। একই সঙ্গে কাজ বন্ধ না করলে তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। সাবেক এই উপজেলা কমান্ডার আরও অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, "একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও আজ নিজের বৈধ মালিকানাধীন জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রতিপক্ষের নানামুখী হুমকি-ধমকির কারণে বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।" এই হয়রানি থেকে মুক্তি এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে মাওলানা আমজাদ হোসেন বলেন, "বন্দোবস্তপ্রাপ্ত কৃষি জমিতে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ আইনসম্মত নয়। মূলত জনস্বার্থে এবং কৃষি জমি রক্ষার দাবিতেই আমরা স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছি। ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হুমকি বা হয়রানি করার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়।"
এদিকে জমিটি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ বলেন, "উক্ত মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে বন্দোবস্তের শর্ত লঙ্ঘনের একটি লিখিত অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে এই অভিযোগের ব্যাপারে সরেজমিনে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে তা যাচাই-বাছাইপূর্বক পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
মাসুদ রানা সোহাগ / মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: