মেঘের দেশে রৌদ্রের দাবদাহ: ৩৭.২ ডিগ্রির অগ্নিবাণে বিপর্যস্ত সিলেট
সবুজ পাহাড় আর মেঘের দেশ সিলেটে এবার যেন প্রকৃতির ভিন্ন রূপ। আষাঢ়ের চেনা রিমঝিম বৃষ্টির বদলে পুরো অঞ্চলজুড়ে ভর করেছে এক অসহনীয় ও ভ্যাপসা গরমের তীব্র দহন। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই সূর্য যেন অগ্নিবর্ষণ করতে শুরু করে, যার ফলে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের জনজীবন। তীব্র রোদের প্রখরতায় অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে অনীহা দেখা গেছে সাধারণ মানুষের মাঝে। যার স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে নগরীর চেনা ব্যস্ত সড়কগুলোতেও; অন্য দিনের তুলনায় মানুষ ও যানবাহনের কোলাহল ছিল অনেকটাই স্তিমিত।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ৩টা পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, বেলা ১২টার দিকেও পারদ ছিল ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বাতাসে জলীয়বাষ্পের মাত্রা অতিরিক্ত হওয়ায় গরমের অনুভূতি যেন আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সকালের আলো ফোটার পর থেকেই এক ধরনের অস্বস্তিকর গুমোট আবহাওয়ায় ঢেকে আছে চারপাশ।
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন খোলা আকাশের নিচে ঘাম ঝরানো খেটে খাওয়া মানুষগুলো। তপ্ত পিচঢালা সড়কে রিকশার প্যাডেল ঘোরানো মোজাম্মেল আলী নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, সকালের দিকে কিছু যাত্রী পাওয়া গেলেও দুপুরের পর রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। এই প্রচণ্ড রোদের মধ্যে রিকশা চালানো যে কী কষ্টের, তা বোঝানো যাবে না। মাথায় ভেজা গামছা বেঁধেও শান্তি পাচ্ছি না। গরমের কারণে মানুষ বের হচ্ছে কম, তাই আয়-রোজগারও কমে গেছে।
একই রকম কষ্টের সুর শোনা গেল দিনমজুর আবদুল জলিলের কণ্ঠেও। ক্লান্ত শরীরে তিনি বলেন, দুপুরের এই খাঁ খাঁ রোদে কাজ করা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাথা ঝিমঝিম করে, শরীর ছেড়ে দেয়। কিন্তু ঘরে তো পরিবার আছে, কাজ বন্ধ রাখলে উনুন জ্বলবে না।
পথচারী ও ক্রেতার সমাগম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারাও। নগরীর আম্বরখানা এলাকার ফল বিক্রেতা জহিরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, রোদের চোট ভাঙার ভয়ে মানুষ ঘর থেকে বেরোচ্ছে না। সারা দিন এই তপ্ত রোদে বসে থেকেও বিক্রিবাট্টা নেই বললেই চলে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন প্রথম সিলেটকে জানান, শনিবার দুপুর ১২টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটে তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বেলা বাড়ার সাথে সাথে দুপুর ৩টায় গিয়ে ঠেকে ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
তবে এই মরুময় পরিস্থিতি থেকে দ্রুতই মিলতে পারে নিষ্কৃতি। তিনি আশার বাণী শুনিয়ে জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি যদি নিম্নচাপে রূপ নেয়, তবেই তাপমাত্রা আবার কমতে শুরু করবে। সেই সাথে সিলেটের আকাশে মেঘের ঘনঘটা এবং আকস্মিক দমকা হাওয়াসহ স্বস্তির বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এখন শুধু চাতক পাখির মতো সেই মেঘের ডাকের অপেক্ষায় সিলেটের মানুষ।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: