অজিত রায় ভজন এর একগুচ্ছ ছড়া ‘হঠাৎ বৃষ্টিতে ও অন্যান্য’
গুজব
*
আজব খেলা চলছে এখন
গুজব শুধু ঢেউ খেলে,
নেট জমানায় সবাই পাগল
ঘুরবে মাথা কেউ এলে।
প্রতিদিনই রটছে খবর
গনেশ নাকি উল্টে যায়,
হাজার কোটি ডলার বুঝি
সুইচ ব্যাংকের ভোল্টে যায়।
দেশের মাটি করবে দখল
অন্যদেশের হায়নারা,
খবর বলে মার্কিনী বা
আসতে পারে চায়নারা।
আজগুবি সব খবর শুনে
অবাক হয়ে যায় সবে,
কোনটি মিছে সত্য বা কি?
চিন্তা করি আয় সবে।
কুলুপ দিয়ে যাই
*
কই না কথা আমি এখন
যতই থাকুক জ্বালা,
ইচ্ছে করেই নিজের মুখে
আজ মেরেছি তালা।
কাণ্ড দেখে হই না অবাক
মুখটা ঢেকে হাসি,
এখন দেখি গলা ঝেরে
কেউ দেয় না কাশি!
নিজের পায়ে নিজেই যদি
কুড়াল মারে নিজে,
চোখের কোণটা শুকনো থাকে
কিন্তু যে বুক ভিজে।
যা হয়েছে ভালোই হলো
যা হবে তা ভালো,
আঁধার যত ঠিক হারাবে
আসবে আবার আলো।
নতুন সাথী
*
পদ্ম দিঘি'র পাড়ে হলো
তোমার সাথে দেখা,
কেউ ছিলো না পাশে তখন
দাঁড়ায় ছিলে একা।
শিমুল গাছে হেলান দিয়ে
ভাবছিলে কি তুমি,
একটি ফড়িং তখন তোমার
হাতটা দিলো চুমি।
একটু দূরে ছিলাম আমি
স্বপ্ন রঙিন বুকে,
কইনি কথা তোমার সাথে
খই ফুটেনি মুখে।
কিন্তু হঠাৎ তোমার হাতে
লাল গোলাপ-টা দিলে,
মুচকি হেসে আপন করে
আমায় তুমি নিলে।
হঠাৎ বৃষ্টিতে
*
হঠাৎ যদি অল্প করে বৃষ্টি হয়,
এই শহরে বন্যা কেবল সৃষ্টি হয়।
খাল নালাতে ময়লা সবে ফেলছে রে,
মেঘের পানি কষ্টে সেটা ঠেলছে রে।
ড্রেনের আগে রাস্তা ডুবে সত্যি তো,
এই কথাটি মিথ্যে নয় এক- রত্তি তো।
ড্রেন ঢেকেছে টাইলস বাহারি কাভারে,
উন্নয়নে ভাসছে সিটি বাবারে!
বৃষ্টিতে
*
বৃষ্টি-জলে দুইজনেতে ভিজতে গিয়ে যদি,
তোমার চোখে বহে যদি আনন্দেরই নদী;
তুমি তখন চোখের ভাষায় শুধুই কথা বলো,
আমায় তুমি সঙ্গী করে আনমনে পথ চলো।
আমি কিন্তু স্বপ্ন-চোখে অজানাতেই ছুটি,
আমার করে শক্ত দেখি তোমার কোমল মুঠি।
হঠাৎ আমি বৈঠা হাতে নৌকা বেয়ে চলি,
আনমনেতে অবুঝ মনে কতই কথা বলি।
বৃষ্টি-জলে আমরা দুজন ভিজলে পরে দেখি,
ছয়টি ঋতুই ছবির মতো আমার কাছে একই।
বৃষ্টিকে তাই ভালোবাসি, বৃষ্টি পড়ুক ঝরে,
বৃষ্টি এলে ভিজব শুধু দুইজনে হাত ধরে।
_____________________
লেখক পরিচিতি : অজিত রায় ভজন, মূলত তিনি ছড়াকার। ১৯৬৭ সনের ৩০ এপ্রিল সিলেট শহরের রায়নগরে জন্মগ্রহন করেন।তার মাতার নাম দুলু রাণী রায়, বাবা নরেন্দ্র কুমার রায়।
সজল
মন্তব্য করুন: