মৌলভীবাজার জুড়ী সীমান্তে ১০ জনকে ‘পুশইন’ করল বিএসএফ

মৌলভীবাজার জুড়ী সীমান্তে ১০ জনকে ‘পুশইন’ করল বিএসএফ

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

০৩/০৭/২০২৬ ১৪:৪৬:৩৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের লাঠিটিলা (কচুরগুল) সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গত বুধবার (১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘটনার পর বুধবার দিবাগত রাতে ভুক্তভোগীদের কান্নাকাটি ও আকুতির বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।


স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে জীবিকার সন্ধানে ভারতের গুজরাটের বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। পরে সে দেশের পুলিশ তাদের আটক করে এবং বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইন করে।


পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, রিয়াদুল মোল্লা (৫৫), সাব্বির শেখ (১৯), ফরিদা বেগম (৪০), লাবিবা খাতুন (৮), সুবা (৩২), দিলরুবা (৩৮), রিতা বেগম (৪০), রিয়া বেগম (২৫), লাইলি খাতুন (২৮) ও সালমা খাতুন (২৭)।


স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে সীমান্ত এলাকায় ওই ১০ জনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তারা ৫২ বিজিবি বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ লাঠিটিলা বিওপিকে খবর দেন। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং সীমান্তের একটি বাড়িতে রাখেন।


এদিকে পুশইনের খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের জন্য লাঠিটিলা বিওপিতে গেলে বিজিবির পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। উল্টো জাতীয় দৈনিক ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর জুড়ী প্রতিনিধি ও পরিবেশকর্মী খোর্শেদ আলমকে বিজিবি সদস্যরা হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সময় তাঁর ছোট ভাই তাওহিদ আলম এবং তাঁর বন্ধু সাব্বির রহমানকে বিজিবি ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে আজ শুক্রবার তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


ভুক্তভোগী সাংবাদিক খোর্শেদ আলম বলেন, পুশইনের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ক্যাম্প থেকে আমাদের কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। উল্টো আমাকে হেনস্তা করা হয় এবং আমার ভাই ও তাঁর বন্ধুকে ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছিল।


পুশইন ও সাংবাদিক হেনস্তার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট বিজিবি কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে বিজিবির কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


সীমান্ত দিয়ে পুশইনের ঘটনা এবং তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তার এই জোড়া ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁরা অনতিবিলম্বে পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

তানজুবা তাবাসসুম

মন্তব্য করুন: