ফাহিমার ঘটনায় জাতির বিবেকের মৃত্যু—এই সমাজ আর কতটা পচবে?
Led Bottom Ad

ফাহিমার ঘটনায় জাতির বিবেকের মৃত্যু—এই সমাজ আর কতটা পচবে?

বশির আহমদ জুয়েল

১২/০৫/২০২৬ ১৯:৫৩:২৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলা এলাকায়  নিষ্পাপ শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত চাচা জাকিরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জাকির সম্পর্কে ফাহিমার চাচা, যার কাছে সমাজের একজন মানুষ হিসেবে ন্যূনতম বিবেক, নৈতিকতা ও মানবিকতার আশা করা যায়—সে-ই হয়ে উঠেছে এক নরপিশাচ। হত্যার পর লাশ ব্যাগে লুকিয়ে রাখার মতো শীতল ও পরিকল্পিত আচরণ আমাদের সমাজকে আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে: আমরা ভয়াবহ নৈতিক পতনের যুগে বাস করছি।


এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জাকিরের বাড়ি ভাংচুর করেছে। যে সমাজ বারবার বিচার পায় না, ন্যায়বিচারে আস্থা হারায়, সেখানে জনরোষই শেষ ভরসা হয়ে ওঠে—এটি দুঃখজনক হলেও বাস্তব। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বাংলাদেশের শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়? কত ফাহিমা ধর্ষিত হয়, খুন হয়—তার হিসাব আর কারও কাছে নেই। প্রতি ঘটনায় আমরা দেখি শোক, ক্ষোভ, প্রতিবাদ—কিন্তু বিচার পায় কয়জন?

বছরের পর বছর মামলা চলে, সাক্ষী ভয়ে চুপ থাকে, তদন্ত ধীরগতির, বিচার দীর্ঘসূত্রতায় হারিয়ে যায়।

রাষ্ট্রের প্রতিটি ব্যর্থতা যেন অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে।


এটা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়—এটা জাতিরও ব্যর্থতা। একজন শিশু নিজের ঘরেই সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা। কিন্তু আজ বাংলাদেশে ঘর, পরিবার, আত্মীয়—কোনোটাই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ক্ষীণ। চাচার মতো ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের হাতে নিষ্পাপ শিশুর ধর্ষণ ও মৃত্যু আমাদের সামাজিক কাঠামোর ভয়াবহ রোগকে চোখের সামনে এনে দেয়।


কঠোরতম শাস্তি—তাৎক্ষণিক বিচার—এ দাবীতে এলাকায় জনগণ ফুঁসে উঠেছে।  দেশে দ্রুত বিচার আদালতের নাম আছে কিন্তু বিচার আসে না দ্রুততায়।

ফাঁসির দাবি পুরনো কথা—কিন্তু বাস্তবে অপরাধীরাই হাসে, ভিকটিমের পরিবার কাঁদে। এমন উদাহরণ রয়েছে গণনাহীন।  রাষ্ট্র যদি ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে জনমানুষ ক্রোধেই আগুন হয়ে উঠবে—এটা অস্বাভাবিক নয়।


ফাহিমার ঘটনা শুধু স্থানীয় কোনো অপরাধ নয়—এটি বাংলাদেশের শিশু নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিকভাবে লজ্জিত করেছে। যে দেশে শিশু ধর্ষণ-হত্যা বাড়তেই থাকে, সেখানকার আইনি ব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা, নৈতিক মূল্যবোধ সবই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠে।


এই ভয়াবহ অপরাধের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত না হলে—এমন নরকীয় ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।

রাষ্ট্রকে বুঝতে হবে: বিচার না হলে জনরোষই বিচার করবে। শুধু ফাহিমার আত্মার শান্তির জন্য নয়—এই জাতির ভবিষ্যৎ শিশুদের নিরাপত্তার জন্য অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাটা একান্ত আবশ্যক বলে মনে করছি।

লেখক : কানাডা প্রবাসী ছড়াকার,সাংবাদিক,সংগঠক ও কলাম লেখক

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad