বাঁধ ভাঙার আতঙ্ক
বিশ্বম্ভরপুরে হাওরজুড়ে ধান কাটার ধুম
সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে এখন এক বিচিত্র পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে সোনালি ধান কাটার উৎসবমুখর ব্যস্ততা, অন্যদিকে আকাশের ঘনঘটা আর দুর্বল বাঁধ ভেঙে পড়ার আতঙ্ক। বৈরী আবহাওয়া আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় কৃষকদের চোখ এখন বারবার আকাশের দিকে। ক্ষণে ক্ষণে আকাশের রং পরিবর্তন হওয়ায় ঘাম ঝরানো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে হাওরবাসীর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম জাতের ধান পেকে গেছে। কৃষকরা মনের আনন্দে ধান কাটলেও মনের কোণে লুকিয়ে আছে ভয়। পসাইততার হাওরের কৃষক মহরম আলী জানান, ইঁদুরের উপদ্রব সত্ত্বেও ফলন ভালো হয়েছে; প্রতি কেয়ারে ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন তিনি। তবে আঙ্গারউলি হাওরের কৃষক জমির মিয়ার কণ্ঠে ঝরল দুশ্চিন্তার সুর।
তিনি বলেন, “ফসল ভালো হলেও রক্ষা বাঁধ নিয়ে চিন্তায় আছি। নির্মাণে দেরি আর অনিয়মের কারণে বাঁধ দুর্বল হয়ে আছে।” পাহাড়ি ঢল নামলে এই দুর্বল বাঁধ কতটুকু টিকবে, তা নিয়েই বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
পাউবো জানিয়েছে, এ বছর ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০৩ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ করা হয়েছে। তবে 'হাওর বাঁচাও আন্দোলন'-এর নেতাদের অভিযোগ, সময়মতো কাজ শুরু না হওয়া এবং নির্মাণে অনিয়মের কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও ফসলহানির ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। নিচু এলাকার অনেক ধান এরই মধ্যে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আধা-পাকা ধানই রক্ষার চেষ্টা করছেন অনেকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিশ্বম্ভরপুরে ২৬ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে এবং ফলনে কৃষকরা সন্তুষ্ট।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, “ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলেই যেন তারা দ্রুত কেটে ফেলেন।”
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন খান জানিয়েছেন, বাঁধগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। প্রকৃতির অনুকপা থাকলে শেষ পর্যন্ত এই সোনালি স্বপ্ন গোলায় উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: