বরিশালে শিক্ষামন্ত্রী মিলন
‘বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে’
বিগত সরকারের আমলে সদিচ্ছার অভাবেই দেশের শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে এবং এর দায় তৎকালীন মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার বরিশাল শিল্পকলা মিলনায়তনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড আয়োজিত কেন্দ্রসচিবদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি একসময় নকলের দাফন-কাফন ও চল্লিশা করে মন্ত্রণালয় ছেড়েছিলাম। কিন্তু এখন নকলের ধরন করোনার মতো রঙ পরিবর্তন করছে, তাই আমাদের প্রতিরোধের কৌশলও পরিবর্তন করতে হবে।’
শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আগামীতে দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং এমসিকিউ পদ্ধতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। শিক্ষা খাতের অভাব-অনটন দূর করতে আগামী বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করা হবে এবং প্রতিটি বিভাগে একটি করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হবে। শিক্ষকদের সরাসরি মতামত নিতেই তিনি সাত দিনের দেশব্যাপী সফরে বের হয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন যে, পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং অভিযুক্ত পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে সকালে লঞ্চযোগে বরিশাল পৌঁছে তিনি মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে প্রশাসনিক ও কৌশলগত নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের মেট্রোপলিটন এলাকায় অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়েও সরকার কাজ করছে এবং সার্বিক মতামতের ভিত্তিতে আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার পর শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে বলে তিনি পুনরায় আশ্বস্ত করেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: