পাথর রাজ্যে রাজকুমার এসআই ওবায়দুল্লাহ
Led Bottom Ad

সাবেক রাষ্ট্রপতির দাপটে

পাথর রাজ্যে রাজকুমার এসআই ওবায়দুল্লাহ

১৯/০৭/২০২৫ ০৬:৩৮:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

এসআই ওবায়দুল্লাহ কিশোরগঞ্জের লোক। ফলে আওয়ামী শাসনামলে দাপট দেখিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতির। অবশ্য ৫ আগষ্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয় নি ওবায়দুল্লাহর দাপট। সাবেক ‘রাস্ট্রপতির আপনজন’ এই পরিচয়টি দিয়ে এখনও তার দাপট চলে বালু-পাথরের রাজ্যে। এলাকার লোকজনও সমাদর করে রাজ্যের রাজকুমার হিসেবে নাম দিয়েছেন এই এসআই ওবায়দুল্লাহর। রাজকুমারের ওপেন চাঁদাবাজির বিষয়টি সারা উপজেলায় আলোচিত। তবুও তিনি বহাল তবিয়তে। থানার কর্তা ব্যক্তিও রাজকুমার ওবায়দুল্লাহ ‘র কাছে অসহায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 


এখন ক্ষমতায় নেই সাবেক রাষ্ট্রপতি। সুযোগ বোঝে এবার ভিন্ন পরিচয়ে এগিয়ে চলছেন আরও একধাপ। এখন তিনি জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় ব্যক্ত করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ফলে বালুর রাজ্যের রাজকুমার গোয়াইনঘাট থানার জাফলংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিট অফিসার এসআই মো. ওবায়দুল্লাহর চাঁদাবাজির কার্যক্রম আরও সহজ হয়ে উঠেছে। সাথে সমানতালে চলে নানা অপকর্ম। তাঁর এই ওপেন চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকরা।


স্থানীয় এক পাথর ব্যবসায়ী জানান,এসআই ওবায়দুল্লাহ জাফলং বিটের দায়িত্বে আসার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেন। জাফলং এলাকায় বালি, পাথর ও চোরাকারবারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা তিনি চাঁদা আদায় করে থাকেন। 

তারপরও বহাল তবিয়তে আছেন তিনি। ওবায়দুল্লাহর চাঁদাবাজি নিয়ে গত ২৪শে জুন ফেসবুকে লাইভ করেন ট্রাক-শ্রমিক সভাপতি ছমেদ। এর পরদিন ২৫ জুন তার স্থান হয় কারাগারে। ওবায়দুল্লাহর চাঁদাবাজি নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।


এদিকে গেল মাসের ১৪ জুন জাফলং সফরে আসেন অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা । পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


এদিকে জাফলং পরিদর্শন শেষে সিলেট শহরে ফেরার পথে অন্তর্বর্তী সরকারের ওই দুই উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তারা ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। বিক্ষোভের কারণ হিসেবে স্থানীয় সূত্র জানায়, জাফলংসহ সিলেটের সব পাথর কোয়ারির ইজারা প্রক্রিয়া স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখে সরকার। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।


পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ উপদেষ্টারা নিরাপদে হরিপুর গেস্ট হাউজে গিয়ে পৌঁছান। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন ঐ ঘটনার বিষয়ে ও আগে থেকেই অবগত ছিলেন জাফলং বিটের কর্মকর্তা এসআই ওবায়দুল্লাহ।

 

পরবর্তীতে নিজের চাকুরী বাঁচাতে পরদিন রোববার (১৫ জুন) রাত ১১টায় গোয়াইনঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়েদ উল্লাহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করেন।

 

মামলায় বহিষ্কৃত গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ খানকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

 

সরকার পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা করলেও ওবায়দুল্লাহ জাফলংয়ে রাতের আঁধারে বালি-পাথর উত্তোলনকারীদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। শ্রমিকরা যখন পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তখন তিনি নিজেই একটি পাথরখেকো চক্রকে প্রতি ফুট ১০ টাকা চাঁদা দেয়ার বিনিময়ে পাথর তুলার অনুমতি দেন। যারা প্রতি ফুট পাথরে ১০ টাকা চাঁদা দেন, তাদের গোপনে পাথর তুলতে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন পাথর শ্রমিকরা।

 

জাফলং পিকনিক সেন্টার ওবায়দুল্লাহ সাপ্তাহিক টাকা নেয়ার অভিযোগ আছে। ওবায়দুল্লাহর সাথে রয়েছে চোরকারবারী ও স্থানীয় চাঁদাবাজদের গভীর সখ্যতা।

 

যার কারণে গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন সীমান্ত হয়ে জাফলং দিয়ে অবাধে চোরাচালানের মালামাল পরিবহণ হয়ে থাকে। তার বিনিময়ে চোরাকারাবারীদের কাছে থেকে মোটা অংকের টাকা নেন ।


এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাফলংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিট অফিসার (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।


এ ব্যাপারে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান বলেন, আমি এসআই ওবায়দুল্লাহর ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।


অভিযোগের বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীকে আমার কাছে অভিযোগ দিতে বলেন।


এব্যপারে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার তোফায়েল আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিযোগ শোনলাম। বলার কিছু নেই। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হবে। 


 



নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad