এক আতঙ্কের জনপদ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ
Led Bottom Ad

এক আতঙ্কের জনপদ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ

মইনুল হাসান আবির

১৯/০৭/২০২৫ ০৬:০৮:০৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাদদেশে অবস্থিত প্রাকৃতিক আর খনিজ সম্পদে ভরপুর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ। গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদের সাথে ব্যবসায়ীক কারনেও সম্পর্ক রয়েছে সারাদেশের। ফলে জেলা শহর সিলেট থেকে ৩০ কিলোমিটার দুরত্বের এই সড়ক পথে প্রতিদিন যাতায়াত করেন পর্যটকসহ হাজার হাজার মানুষ। আর সুযোগ কাজে লাগাতে এই সড়কে এক অভিনব পাত পাতানো হয়েছে। সূর্য পশ্চিমে হেলান দেওয়ার সাথে সাথে পাল্টে যায় কোম্পানীগঞ্জ সড়কের চিত্র। সড়কের দুপাশে রশি দিয়ে পাতানো হয় ফাঁদ। সেই ফাঁদে আটকা পড়েন পথচারী। তারপর সবকিছু রেখে দিয়ে শুন্য হাতে জীবন নিয়ে ফিরতে হয় পথচারীদের। শুধু এখানেই শেষ নয়, পাতানো রশির ফাঁদে আটকা পড়ে বিভিন্ন যানবাহন। ফলে ঘটে যায় মারাত্বক দুর্ঘটনা। 


গেল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১ টায় রশির পাতানো ফাঁদে আটক হয়ে প্রাণ হারান মোটর সাইকেল আরোহী এক যুবক। এই ঘটনায় আহত হন আরও ৩ জন। নিহত যুবকের নাম সবুজ আহমদ (২১)। তিনি উত্তর কলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত মনিরুল ইসলাম ওরফে তোতা মিয়ার ছেলে।  গুরুতর আহতরা হলেন—একই গ্রামের মো. সুমন (২৩) এবং বুড়দেও গ্রামের মো. মাহদী (১৮)। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে পাঠানো হয়েছে। 


সিলেট থেকে ফেরার পথে রাত ১টার দিকে কাঠাখাল দ্বিতীয় ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎই সড়কে দুই পাশে বাঁধা রশির ফাঁদে পড়ে যান তারা। চালক সবুজের গলায় রশি জড়িয়ে গেলে তিনজনই ছিটকে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই মারা যান সবুজ, আর বাকি দুজন আহত হন।


স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাইটেক পার্ক থেকে হাবির দোকান পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ডাকাতির ঘটনা ঘটে আসছে। সম্প্রতি রশি বেঁধে মোটরসাইকেল আরোহীদের ফাঁদে ফেলার কৌশল নিয়েছে ডাকাতরা।


সপ্তাহখানেক আগে একই স্থানে ডাকাতের ফাঁদে পড়েছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সিএ মিজানুল কবির। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও মোবাইল ও টাকা লুট করে নেয় ডাকাতরা। সে ঘটনায় পুলিশকে জানানো হলেও এখনো কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা যায়নি।


স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশ সবকিছু জানলেও এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করছে। লোকমুখে প্রচার রয়েছে, থানা পুলিশের সাথে ডাকাত চক্রের এক চুক্তি রয়েছে। ফলে তাদের দাবি অনুযায়ী সড়কে টহল পুলিশ পাহাড়ায় থাকলেও এখনও কোন অভিযানে ডাকাত চক্রের কাউকে আটক করা যায় নি। 


এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলছেন, কোম্পানীগঞ্জের আইন শৃঙ্খলার অবস্থা দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছে । এ অবস্থায় জরুরী প্রয়োজনে জেলা শহর থেকে ফেরার পথে প্রতিদিনেই এই স্থান দিয়ে আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয়। 


এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনান বলেন, “সড়কে আমাদের দুটি টহল টিম কাজ করছে। ডাকাতরা অত্যন্ত কৌশলে সুযোগ নিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, টহল টিম বাড়িয়ে পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেস্টা করা হবে। 

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad