ডাকাতদের পাতানো রশির ফাঁদ
কোম্পানীগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু
সড়কে দুই পাশে বাঁধা রশির ফাঁদ। নির্বিঘ্নে ডাকাতি কর্মকাণ্ড সম্পাদনের এই ফাঁদে ঘটছে প্রতিদিন নানা দুর্ঘটনা। কেউ হারাচ্ছেন টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। এই অবস্থা দীর্ঘদিন থেকে চলমান থাকলেও প্রশাসনের ভূমিকা নিরব। ফলে প্রতিদিনই ঘটছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে ডাকাতদের পাতানো ফাঁদে এবার দুর্ঘটনার শিকার হলেন এক মোটর সাইকেল আরোহী। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১ টার দিকে এই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী যুবক প্রাণ হারান। এই ঘটনায় আহত হন আরও দুইজন।
নিহত যুবকের নাম সবুজ আহমদ (২১)। তিনি উত্তর কলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত মনিরুল ইসলাম ওরফে তোতা মিয়ার ছেলে। গুরুতর আহতরা হলেন—একই গ্রামের মো. সুমন (২৩) এবং বুড়দেও গ্রামের মো. মাহদী (১৮)। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে পাঠানো হয়েছে।
সুমনের পরিবারের সদস্য ও পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সবুজ সিলেট শহরের পাড়ুয়া এলাকার মিলেনিয়াম পাম্পের সামনে একটি দোকানে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্ধু সুমনের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে সিলেটে যান। ফেরার পথে তাদের সঙ্গে যোগ দেন মাহদী।
রাত ১টার দিকে কাঠাখাল দ্বিতীয় ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎই সড়কে দুই পাশে বাঁধা রশির ফাঁদে পড়ে যান তারা। চালক সবুজের গলায় রশি জড়িয়ে গেলে তিনজনই ছিটকে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই মারা যান সবুজ, আর বাকি দুজন আহত হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাইটেক পার্ক থেকে হাবির দোকান পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ডাকাতির ঘটনা ঘটে আসছে। সম্প্রতি রশি বেঁধে মোটরসাইকেল আরোহীদের ফাঁদে ফেলার কৌশল নিয়েছে ডাকাতরা।
সপ্তাহখানেক সপ্তাহ আগে একই স্থানে ডাকাতের ফাঁদে পড়েছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সিএ মিজানুল কবির। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও মোবাইল ও টাকা লুট করে নেয় ডাকাতরা। সে ঘটনায় পুলিশকে জানানো হলেও এখনো কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনান বলেন, “সড়কে আমাদের দুটি টহল টিম কাজ করছে। ডাকাতরা অত্যন্ত কৌশলে সুযোগ নিয়ে হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবার মামলা করবে জানিয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়াও চলছে।”
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: