ওসমানীনগরে সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদার উধাও
Led Bottom Ad

ওসমানীনগরে সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদার উধাও

নিজস্ব প্রতিনিধি, ওসমানীনগর

১৭/০৭/২০২৫ ০৫:৫৮:০৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের ওসমানীনগরের দৌলতপুর এলাকায় নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই লাপাত্তা হয়েছেন প্রকল্পের ঠিকাদার। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে স্থানীয়দের।


উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নে বুড়ি নদীর ওপর এই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা ছিল ওই নদীর ওপর একটি সেতুর। গ্রামবাসীর এই প্রত্যাশিত প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখে উধাও হয়ে যান ঠিকাদার।


এদিকে মেয়াদ শেষে প্রকল্পের কাজ কতদূর হলো এবং সেটি বুঝে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরও ঠিকাদারের কোনো খোঁজ পাচ্ছে না। ঠিকাদারের একাধিক মোবাইল নাম্বারের সবকটি চালু থাকলেও কোনোটিই রিসিভ করছেন না তিনি। এমন অবস্থায় সেতুর কাজ কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে সে নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


জানা যায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরের অধীনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বুড়ি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় আয়ান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। গত বছর সেতুর পাইলিংয়ের কাজ করা হয়। চলতি বছর সেতুর মূল অংশ নির্মাণের লক্ষ্যে এর দুই পাশে কাঠামো তৈরির পর কাজ বন্ধ করে মালপত্র নিয়ে চলে যান ঠিকাদার। এর আগে কাজ শুরু করার পর মোট বরাদ্দের ৪০ শতাংশ টাকা তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার। এর পর থেকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রাজিবের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করতে পারছেন না। এমনকি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাও তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ। পরে বাধ্য হয়ে তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, একে তো কাজ শেষ হয়নি, তার মধ্যে ঠিকাদার যতটুকু কাজ করেছেন তা-ও নিম্নমানের।


বুড়ি নদীর ওপর প্রকল্পের সাইটে গিয়ে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত ব্রিজটি দুই পাশের অ্যাবাটমেন্ট (সেতুর শেষ প্রান্তে অবস্থিত কাঠামো, যা সেতুর ভার বহন করে এবং মাটির চাপ সামলায়) ছাড়া আর কোনো কাজ হয়নি।


দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা মতিলাল দত্ত বলেন, সেতুটি তাদের দীর্ঘদিনের দাবির ফসল। ঠিকাদার কাজ পাওয়ার পর গত বছর সেতুর নকশা ও প্রকল্প সম্পৃক্ত নথিপত্রের কাজ সম্পন্ন করেন। চলতি বছর গার্ডার ওয়ালসহ দুই পাশের প্রাথমিক কাঠামো তৈরির পর মালপত্র নিয়ে চলে যায় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর থেকে ঠিকাদারের আর কোনো খোঁজ নেই।


স্থানীয়রা জানান, দুই পাশে দেয়াল থাকায় বাঁশের সাঁকোও দেওয়া যাচ্ছে না। এতে করে নদী পারাপারে অস্থায়ী ব্যবস্থা করারও উপায় নেই। তার মধ্যে যে কাজ করা হয়েছে তা আবার নিম্নমানের। এসময় কাজটি দ্রুত নিষ্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তারা।


পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী চৌধুরী সুমন বলেন, দৌলতপুরে বুড়ি নদীতে সেতু নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনেকবার কথা বলেছেন। সেতুটির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সেই সঙ্গে চোখের সামনে এত দিনের দাবির বাস্তবায়ন এভাবে থমকে যেতে দেখে হতাশ তারা।


এ ব্যাপারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রাজিবের মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করে ও সাড়া পাওয়া যায়নি।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ঠিকাদারকে কোনোভাবেই পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন। আশা করা যাচ্ছে ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad