ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস
মৌলভীবাজার–২ : চা শ্রমিক ও আওয়ামী ভোটের ওপর নির্ভর করছে ভাগ্য
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলগতভাবে আওয়ামী লীগ না থাকলেও তাদের সমর্থকদের ভোট এবং চা শ্রমিকদের ৩০ হাজার ভোটের হিসাব নিয়েই নির্বাচনী মাঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩ হাজার ২০ জন।
নির্বাচনী মাঠে আটজন প্রার্থী থাকলেও শেষ মুহূর্তে মূল লড়াই হবে চারজনের মধ্যে বলে স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন। ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জনমত জরিপে উঠে এসেছে এই চার প্রার্থীর নাম: শওকতুল ইসলাম শকু (ধানের শীষ - বিএনপি), এম সায়েদ আলী (দাঁড়িপাল্লা - জামায়াতে ইসলামী), নওয়াব আলী আব্বাস খান (ফুটবল - স্বতন্ত্র) ও ফজলুল হক খান সাহেদ (কাপ-পিরিচ - স্বতন্ত্র)।
স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, এই আসনে আওয়ামী লীগের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত হলেও এবারের নির্বাচনে দলটি না থাকায় তাদের ভোট ‘সুইং ভোট’ বা ভাসমান ভোটে পরিণত হয়েছে। যার ব্যালটে এই ভোট যাবে, জয়ের মালা মূলত তার। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের বিশাল ভোটব্যাংক এবার কার পক্ষে যায়, তা নিয়ে রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
বিএনপি প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, “ভোটব্যাংকের ভোট স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শক্তির পক্ষেই আসবে।” অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী এম সায়েদ আলী তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে থেকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাস খান ও ফজলুল হক খান সাহেদও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে আছেন।
এছাড়াও জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী কাঁচি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন, যাকে সমর্থন জানিয়েছেন বিশিষ্ট জিন বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, এই আসনে ১০৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: