মৌলভীবাজারে জামায়াত প্রার্থীকে এনসিপির সমর্থন
মৌলভীবাজার-৩ (সদর–রাজনগর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা কমিটি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার শহরের একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির জেলা নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও মাঠপর্যায়ের জনমত পর্যালোচনা করে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আব্দুল মান্নানের গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনী এলাকায় তাঁর শক্ত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তারা জানান, জোটের ঐক্য অটুট রাখা এবং সরকার গঠনে জয় নিশ্চিত করতেই একযোগে কাজ করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক খালেদ হাসান, সদস্যসচিব রুহুল আমীন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া। এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পৌর সেক্রেটারি মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মুক্তাদির আহমদ, কেন্দ্রীয় যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আল হামিদ, কেন্দ্রীয় সংগঠক জাকারিয়া ইমন, যুবশক্তির মৌলভীবাজার জেলা সদস্যসচিব হাসনাত গানিমসহ উভয় দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মৌলভীবাজার-৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ বিলাল। তবে জোটের প্রধান শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় আইনি জটিলতায় তাঁর প্রার্থিতা বহাল থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জানুয়ারি আব্দুল মান্নানকে তাঁর বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। পরদিন ২১ জানুয়ারি তাঁকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর ১১ দিন পর গত ৩১ জানুয়ারি বড় ধরনের শোডাউনের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন।
এতে ১১ দলীয় জোটের ভেতরে অসন্তোষ ও বিভক্তি আরও প্রকট হয়েছে। জোটের দুই প্রার্থীর কারণে ভোট বিভক্ত হলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।
এ বিষয়ে জোট প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন, ‘মৌলভীবাজার-৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী আমি। জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জামায়াত প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করে নির্বাচনী প্রচারণায় নামায় তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুরুতে বলা হয়েছিল নেতাকর্মীদের বাধার কারণে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। অথচ পরে জোটের নির্দেশ অমান্য করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়েছে। এতে জোটের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে।’
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: