অঙ্গীকারনামা প্রত্যাখ্যান করে নির্ধারিত তারিখে শাকসু নির্বাচনের দাবিতে স্মারকলিপি
Led Bottom Ad

অঙ্গীকারনামা প্রত্যাখ্যান করে নির্ধারিত তারিখে শাকসু নির্বাচনের দাবিতে স্মারকলিপি

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

১৪/০১/২০২৬ ২১:২৬:৩১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনে অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা দেওয়ার শর্ত প্রত্যাখ্যান করে পূর্বনির্ধারিত তারিখে নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

বুধবার ( ১৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব এক্সিলেন্স ভবনের সামনে শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিটি জমা দেন প্রার্থীরা। স্মারকলিপিতে মোট ৭৬ জন প্রার্থী স্বাক্ষর করেন।

শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ জানান, প্রার্থীদের পক্ষ থেকে যথাসময়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এতে একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের স্মারক নম্বর উল্লেখ থাকায় স্মারকলিপিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, “২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হবে—এমন প্রস্তুতি নিয়েই আমরা কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন স্থগিতের কোনো নির্দেশনা এখনো দেওয়া হয়নি।”

এর আগে বুধবার সকাল ১১টা থেকে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন। এতে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’-এর সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ, ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’-এর ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান, স্বতন্ত্র প্যানেল ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’-এর ভিপি প্রার্থী মুহয়ী শারদ এবং স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মুমিনুর রশীদের স্বাক্ষর রয়েছে।

স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা উল্লেখ করেন, ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে শাকসু নির্বাচনের পথে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেখানে শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও বাস্তবে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে শাকসু বা হল সংসদ নির্বাচনের কোনো ধরনের সাংঘর্ষিকতা নেই বলে তারা মনে করেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা চাওয়া সম্মানজনক নয় এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। তাই পূর্বনির্ধারিত ২০ জানুয়ারি কোনো নতুন শর্ত আরোপ ছাড়াই শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তারা।

স্বতন্ত্র প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুহয়ী শারদ বলেন, “নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে তিনটি শর্ত বা অঙ্গীকারনামা আরোপ করা হয়েছে, আমরা তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রার্থীদের দায়িত্ব নয়। আমরা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব, তবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম বলেন, “প্রার্থীরা অঙ্গীকারনামা না দিয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। আমি তাদের বলেছি, শাকসু নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে কিছু দিলে তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। স্মারকলিপিটি দেরিতে দেওয়া হলেও তা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আজ অনলাইনে এবং আগামীকাল হার্ড কপি পাঠানো হবে।”

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনের এক প্রজ্ঞাপনে ১২ ফেব্রুয়ারির আগে দেশে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শাকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং ওই দিনই প্রার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের বরাত দিয়ে শর্তসাপেক্ষে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উল্লেখ্য, শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনকালে কোনো ধরনের সহিংসতা না হওয়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটানো এবং শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব না ফেলা।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad