হাকালুকি হাওরে পরিবেশ সুরক্ষায় ২৭ হাজার হিজল চারা রোপণ
হাকালুকি হাওরের পরিবেশ সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় মোট ২৭ হাজার হিজল গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বড়লেখা উপজেলা অংশে ১৫ হাজার এবং জুড়ী উপজেলা অংশে ১২ হাজার হিজল চারা রোপণ করা হয়।
গত রোববার বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওরের মালাম বিলের কান্দা ও জলা বিলের উত্তর কান্দা এলাকায় চারা রোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস)। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বড়লেখা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিএনআরএসের উপজেলা ফিল্ড ম্যানেজার সাহাদাৎ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে জুড়ী উপজেলার হাকালুকি হাওরের চাতলা বিল এলাকায় চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ দস্তেগীর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এবং সিএনআরএসের ফিল্ড ম্যানেজার মোস্তফা হায়দার মিলন।
জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ দস্তেগীর বলেন, হাকালুকি হাওরাঞ্চলের পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বিচারে গাছ কাটাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওর এলাকায় ভূমিক্ষয় বেড়েছে। হিজলের মতো জলাভূমি উপযোগী গাছ রোপণের মাধ্যমে মাটির বাঁধন শক্ত হবে এবং ঢেউয়ের আঘাত থেকে হাওরসংলগ্ন বসতবাড়ি রক্ষা পাবে। একই সঙ্গে এসব গাছ জলজ প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয় ও প্রজননক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করবে।
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, হিজল গাছ হাওরের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি উদ্ভিদ প্রজাতি। এটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে টিকে থাকতে পারে এবং তীব্র স্রোত সহ্য করার ক্ষমতা রাখে। হাওরের ইকোসিস্টেম রক্ষা, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এ ধরনের পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা অংশে রোপিত ২৭ হাজার হিজল চারা বড় হলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং হাকালুকি হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: