মৌলভীবাজার-৪ আসন: বিএনপি প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ নিজের দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী
মৌলভীবাজার-৪ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। চা-বাগান অধ্যুষিত এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাব থাকলেও এবার তারা নির্বাচনে নেই। ফলে চা শ্রমিকদের ভোট এখনো কোনো নির্দিষ্ট দলের দিকে ঝুঁকেনি। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জয়ের জন্য তাই এই আসনের সব প্রার্থীর নজর ভোটারদের মন জয় করার দিকে বেশি।
বিএনপির জন্য এ আসনটি অন্য যে কোনো আসনের তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ, দলীয় প্রার্থীকে নিজের দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান এ আসনের দলীয় প্রার্থী। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পাঁচবারের নির্বাচিত মেয়র ও জেলা বিএনপির সদস্য মহসিন মিয়া মধু। স্থানীয় তৃণমূল নেতারা মনে করছেন, জনপ্রিয়তা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে মধুই বিএনপির প্রার্থীর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।
এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সম্পাদক প্রীতম দাশ, জামায়াতে ইসলামীর নেতা আব্দুর রব, এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা নূরে আলম হামিদী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয়দের কাছে প্রত্যেকেরই নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একাধিক প্রার্থীর কারণে ভোট কাটাকাটির সম্ভাবনা বেড়ে গেছে, যা বিএনপির জন্য আরও চাপ বাড়াচ্ছে।
প্রার্থী মুজিবুর রহমান সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দাতব্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, মহসিন মিয়া মধু দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়, আন্দোলন-সংগ্রামে ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রাখার কারণে পরিচিত।
মহসিন মিয়া মধু শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পাঁচবারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। পতনঊষার গ্রামের বিএনপি সমর্থক ফটিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, “দলের ভিতরে বিভেদ কমছে। ভোট শেষ পর্যন্ত বিএনপির বাক্সেই যাবে।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লাম কিবরিয়া শফি বলেন, “দলীয় প্রার্থী এখনো তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেননি। ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে হলে আরও জনসম্পৃক্ত হওয়া জরুরি।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু জানিয়েছেন, “দলীয় প্রার্থী যদি কোনো কারণে বিজয়ী না হন, তবুও বিএনপির আদর্শ রক্ষার স্বার্থে আমি এই আসন ধরে রাখব।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: