অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা : ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ সিলেট বিভাগের ৩৮ যুবক
Led Bottom Ad

মানব পাচারকারী হাসান মোল্লাসহ ৮ জনকে নোটিস

অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা : ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ সিলেট বিভাগের ৩৮ যুবক

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১২/১২/২০২৫ ১১:১০:১০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

লিবিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সিলেট বিভাগের নিখোঁজ ৩৮ যুবকের কোনো খোঁজ মিলছে না। নৌকায় ত্রিপলি উপকূল ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিখোঁজ হয়ে যান তারা। বিভিন্ন কারাগার, হাসপাতাল ও মানবিক সংস্থার মাধ্যমে খোঁজ নিয়েও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস।

এ ঘটনায় মানব পাচার চক্রের হোতাসহ আটজনকে নোটিস দিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ। একই সঙ্গে ভিকটিম পরিবারের প্রতি মামলা দায়েরের আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন।

হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের নোটিসপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আলোচিত মানব পাচারকারী আজমিরীগঞ্জের লিবিয়া প্রবাসী হাসান আশরাফ ওরফে হাসান মোল্লা। তাঁর চার সহযোগী মোস্তাকিম, তফছির, মিজান ও সোহাগকে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসির মাধ্যমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহের কার্যালয়ে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মো. রাসেল মিয়া জানান, সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও নিখোঁজদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রেড ক্রিসেন্টসহ আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোও কোনো তথ্য দেয়নি।

তিনি বলেন, “এর আগেও মার্চে ১৫ বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছিলেন। তাদেরও আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তারা সাগরে ডুবে গেছেন।”

৩০ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার ত্রিপলি উপকূল থেকে ইতালির উদ্দেশে চারটি নৌকা ছেড়ে যায়। এর মধ্যে তিনটি নিরাপদে ইতালিতে পৌঁছালেও একটি নৌকা নিখোঁজ হয়। সেই নৌকাতেই ছিলেন হবিগঞ্জের ৩৮ জনসহ প্রায় ৯০ জন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তরুণদের ইতালি পাঠানোর বড় চক্র গড়ে তুলেছেন হাসান মোল্লা। মাত্র ছয় মাসে এক হাজারেরও বেশি যুবককে ইতালিতে পাঠানোর ‘দালালি’ করেন তিনি।

ত্রিপলি উপকূল থেকে ১০ ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রায় মানুষ ইতালিতে পৌঁছানোর নামে প্রতি জনের কাছ থেকে নেন ১৭–২০ লাখ টাকা। শুধু এই ছয় মাসেই তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিখোঁজ যুবকদের পরিবারগুলো ভয় ও অনিশ্চয়তায় এখন দিশেহারা। প্রিয়জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর আশঙ্কায় অনেকেই মুখ খুলতে দ্বিধা করছেন; আইনি পদক্ষেপ নিতেও সাহস পাচ্ছেন না।

হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পেলেই মানব পাচার আইনে মামলা করা হবে এবং চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad