পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ
মৌলভীবাজারে নতুন মসজিদ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের কেশবচর গ্রামে আহলে হাদিস মতাদর্শীদের নতুন একটি মসজিদ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় আহলে হাদিস ও সুন্নি জামায়াতপন্থি স্থানীয়দের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেশবচর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী জবরুল মিয়ার উদ্যোগে নির্মিত নতুন মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই দুই ধর্মীয় মতাদর্শের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। মসজিদের নামকরণ, ইমাম নিয়োগ এবং ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের ভিন্নতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই উত্তেজনা বিদ্যমান ছিল। নতুন মসজিদ নির্মাণের পর থেকে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুহিদ মিয়া বলেন, “ধর্মীয় রীতিনীতির পার্থক্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বাকবিতণ্ডা এবং ছোটখাটো সংঘর্ষ ঘটেছে। আহলে হাদিসদের আলাদা জুম্মার জামায়াত পরিচালনা নিয়েও সুন্নি অনুসারীদের আপত্তি ছিল। এর ধারাবাহিকতায় পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, এটি তাৎক্ষণিক কোনো ঘটনা নয়; দীর্ঘদিনের মতবিরোধেরই বহিঃপ্রকাশ। উদ্বোধনকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যার পরই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে শান্ত হতে নির্দেশ দেয়।
শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শিপু কুমার দাস বলেন, “ধর্মীয় সংঘাত রোধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আইন নিজের হাতে তুলে নিতে কাউকে দেওয়া হবে না।”
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং গুজব বা উসকানিমূলক কোনো তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেশবচর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: