শ্রীমঙ্গলে জলমহালের মাছ লুট: যুবদল নেতাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
Led Bottom Ad

শ্রীমঙ্গলে জলমহালের মাছ লুট: যুবদল নেতাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

০৫/১২/২০২৫ ২০:২৭:১৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া জলমহাল থেকে মাছ লুট ও চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদল নেতা মো. আহাদ মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুনবীর মহামায়া মৎস্যজীবী সমবায় ব্যবস্থাপনা সমিতির সদস্য সুজিত সরকার বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল থানায় এ মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০–২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


সুজিত সরকারের অভিযোগ, উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে তারা তিন বছরের জন্য লতুয়া বিল ইজারা নেন। দীর্ঘদিন ধরে যুবদল নেতা আহাদ মিয়া তাঁদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দেওয়ায় গত ৩০ নভেম্বর রাতে তিনি মাইকিং করে ইজারাটিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেন। পরদিন সকালে তাঁর নেতৃত্বে শতাধিক লোক জলমহালে প্রবেশ করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে হামলার পরিস্থিতিও তৈরি হয়।


উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ভূনবীর ইউনিয়নের শাসন এলাকায় লইত্তা মেট্টা ও কানকাটা বিল নিয়ে ৭.৫ একরের জলমহালটি বিস্তৃত। এর ইজারার মেয়াদ ১৪৩০–১৪৩২ বাংলা পর্যন্ত।


অভিযোগ অস্বীকার করে আহাদ মিয়া বলেন, ‘এটি মিথ্যা মামলা। স্থানীয়দের অভিযোগে আমরা হাওরের নেটের বেড়া অপসারণে গিয়েছিলাম।’ তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় মৎস্যজীবীরা কিছুদিন আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরীর কাছে তাঁদের সমস্যা জানালে তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন।


শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন জারু বলেন, অভিযোগ সত্য হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এম এ মুহিতও একই মন্তব্য করেন।


বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) বলেন, ‘কেউ যদি চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসে জড়িত থাকে, সে আমার লোক নয়। প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।’


সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, ইজারাদারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড হয়েছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ক্ষতির প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে, গত সোমবার ও বুধবার ভুনবীর এলাকার বিভিন্ন জলমহালে পলো নিয়ে হাজারো মানুষ মাছ শিকার করেন। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছ লুট হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনের তদারকি–ঘাটতির কারণেই এ ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad