সিলেট বিএনপিতে এতিমখানায়ও চেয়ারের লড়াই!
সিলেট নগর বিএনপির রাজনীতি যেন নাটকের চেয়েও নাটকীয়। সভাপতি নাসিম হোসাইন আর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর টানাপোড়েন এবার গিয়ে থামল—অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—এতিমখানার উঠানে!
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কাজিটুলার মক্তবে এতিমদের নিয়ে দোয়া ও খাবারের আয়োজন করেছিলেন নাসিম হোসাইন। শান্ত, সাদামাটা এক আয়োজন—শুধু দোয়া, শিরনি আর অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু সেই শান্ত দুপুরেই হঠাৎ বইল রাজনৈতিক ঝড়।
নাসিম হোসাইন আয়োজিত কর্মসূচির খবর পেয়ে হাজির হন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কয়েস লোদীর অনুসারীরা। মুহূর্তেই বাতাসে উত্তেজনা। প্রশ্নের পর প্রশ্ন—
কে অনুমতি দিল? ব্যানার কে লাগাল? বলতে বলতেই খুলে নেওয়া হলো ব্যানার। যেন প্রতীকীভাবে জানিয়ে দেওয়া—চেয়ারের লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
সিনিয়র নেতা নাসিম হোসাইন নীরব থাকলেন—হয়তো আহত, হয়তো অপমানিত। কিন্তু এতিমদের খাবার যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে ছিল তার কঠোর মনোযোগ।
দোয়া শেষে শিরনি বিলিয়ে তিনি চলে গেলেন—কথা না বাড়িয়ে, তবু মনে জমা ক্ষোভ নিয়ে।
অন্যদিকে কয়েস লোদী বললেন—"আমি কোনো বিশৃঙ্খলা করিনি; শুধু শেষ মুহূর্তে শিরনি বিতরণে গিয়েছিলাম।" আর পদ-পদবির লড়াই নিয়ে তার স্পষ্ট বক্তব্য—"দল আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে; নির্দেশনা না বদলানো পর্যন্ত আমিই দায়িত্বে থাকব।"
কী আশ্চর্য, দুই নেতার ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এতিমখানার দেয়ালগুলোও যেন একদিনের জন্য সাক্ষী হলো রাজনীতির অভিমান, বিভ্রান্তি আর নাটকীয়তার।
যে জায়গায় থাকার কথা ছিল শান্তি আর করুণা—সেখানেই দেখা গেল পদ-পদবির টানাপোড়েনে উত্তপ্ত আবেগের বিস্ফোরণ।
নেতৃত্বের এই লড়াই যে শেষ হয়নি—তা স্পষ্ট। বরং কেন্দ্রের পরপর দুই ভিন্ন বিজ্ঞপ্তি বিভ্রান্তিকে আরও গভীর করেছে। এখন শুধু সময়ই বলবে—সিলেট মহানগর বিএনপির প্রকৃত চেয়ারটি কার হাতে স্থায়ীভাবে উঠবে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: