অবরোধ কর্মসূচির হুমকি
সিলেটের উন্নয়ন বৈষম্যের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি: সরকারের কাছে ৮ দফা দাবি পেশ
সিলেটের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্যের প্রতিবাদে এবং ন্যায্য উন্নয়ন দাবিতে রবিবার সকালে সিলেট নগরীর সিটি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশাল অবস্থান কর্মসূচি। ‘সিলেট আন্দোলন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ হাজারো সাধারণ মানুষ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “দেশের অন্যান্য বিভাগে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেলেও সিলেট বারবার বঞ্চিত হচ্ছে। ঢাকায় ২৪০০ কোটি, খুলনায় ২৪০০ কোটি, চট্টগ্রামে ৩১০০ কোটি, বরিশালে ২৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হলেও সিলেটের জন্য অনুমোদিত ১৯ কোটি টাকার প্রকল্পও ফেরত নেওয়া হয়েছে। এটি স্পষ্ট সিলেটবিদ্বেষ।”
তিনি আরও বলেন, “বিগত ১৭ বছর সিলেটবাসী বৈষম্যের শিকার। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলেও যদি এই বৈষম্য অব্যাহত থাকে, তবে সিলেটবাসী রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামবে।”
আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, সিলেটের পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করে টাঙ্গুয়ার হাওর বা জাফলং কেন্দ্রিক বিশেষ ট্রেন প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-কক্সবাজার রেলপথের ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্প, এবং ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ প্রকল্পও দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে, ফলে সিলেটে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শাহজালাল (রহ.)–এর পবিত্র মাটিতে আর কোনো বৈষম্য সহ্য করা হবে না। দ্রুত দাবি পূরণ না হলে সিলেট বিভাগজুড়ে কঠোর অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে দরগাহ মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা আসজাদ আহমদ বলেন, “সিলেট শুধু একটি অঞ্চল নয়—এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। সিলেটের প্রতি বৈষম্য মানে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা।”
পরে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের হাতে সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত দাবিপত্র পেশ করেন। দাবিপত্র গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, “ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণ দ্রুত চলছে। রেলপথ উন্নয়ন, পানির সংকট নিরসন, রাস্তাঘাট সংস্কারসহ সব প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সিলেট থেকে নতুন একটি ফ্লাইট চালু হবে। এছাড়া এয়ারলাইনস টিকিটে স্বচ্ছতা আনতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সিলেটের পর্যটন শিল্প উন্নয়নে সরকার বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।”
প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে সিটি পয়েন্ট থেকে সুরমা মার্কেট পর্যন্ত এলাকা মুখরিত ছিল বিভিন্ন শ্লোগানে। আন্দোলনকারীরা এক কণ্ঠে বলেন— “আমাদের দাবি, আমরা করবো—আদায় করে ঘরে ফিরবো।”
কর্মসূচিতে অংশ নেন সিলেটের রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিককর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: