ঋণের চাপ সইতে না পেরে বড়লেখায় ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় কোটি টাকা ঋণের চাপে এক সবজি ব্যবসায়ী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার দোহালিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের মসজিদের বারান্দায় রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত কামরুল ইসলাম উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের মৃত মুজম্মিল আলীর ছেলে। এ বিষয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে নিহতের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
নিহতের ছোটভাই হোসাইন আহমদ জানান, গ্রামের সাবেক এক জনপ্রতিনিধি তার বড়ভাই সবজি ব্যবসায়ী কামরুল ইসলামের কাছ থেকে ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে প্রায়ই টাকা ধার নিতেন। লাভের অংশসহ ধারের টাকা ফেরতও দিতেন। এভাবে বিশ্বাস জমিয়ে ওই জনপ্রতিনিধি টাকা ধারের পরিমাণ বাড়াতে থাকেন।
তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে বড় এক ব্যবসার নামে মোটা অঙ্কের টাকা ধার চান। নিহত কামরুল ইসলাম বেশি মুনাফার আশায় প্রবাসী আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ এনে তাকে প্রায় কোটি টাকা তোলে দেন। টাকা ফেরত দেওয়ার সময় আসার আগেই ওই জনপ্রতিনিধি আত্মগোপন করেন। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি লাপাত্তা।
এদিকে কামরুল ইসলাম যাদের কাছ থেকে ধারদেনা করে জনপ্রতিনিধির হাতে টাকা দিয়েছিলেন তারা টাকার জন্য মারাত্মক চাপ দিতে থাকেন। পাওনাদারদের চাপে ১৫-২০ দিন ধরে তিনি প্রচণ্ড মানসিক বিপর্যস্ত ছিলেন। প্রায় কোটি টাকা ঋণের চাপে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে সোমবার দুপুরে তিনি বাড়ির পাশের মসজিদের বারান্দায় রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়লেখা থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার সন্ধ্যায় নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: