ফলন পেলেও বাজার ও সিন্ডিকেটে দিশেহারা সুনামগঞ্জের বোরো চাষিরা

মৌসুম শেষেও মাথায় হাত

ফলন পেলেও বাজার ও সিন্ডিকেটে দিশেহারা সুনামগঞ্জের বোরো চাষিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৭/০৯/২০২৬ ১৩:২৮:০৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দেশের অন্যতম ধান উৎপাদনকারী অঞ্চল সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের চোখে এখন কেবলই অনিশ্চয়তার ছাপ। একসময় ধান দিয়ে অভাব মেটানোর প্রবাদ থাকলেও, কাটামারাইয়ের সময় বৈরী আবহাওয়া, সরকারি সংগ্রহ অভিযান হঠাৎ বন্ধ হওয়া এবং চালকল মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে উৎপাদিত ফসল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রায় ১০ লাখ কৃষক।

গত বৈশাখে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের সময় পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়ায় অনেক ধানের রঙ কিছুটা কালচে হয়ে যায়। ফলে বাজারে এসব ধানের ক্রেতাই পাওয়া যাচ্ছে না। আর যেসব ধানের রঙ ভালো, সেগুলোর দামও উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। ব্যবসায়ীরা জানান, সুনামগঞ্জের ধান মূলত আশুগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের বড় বড় চালকলে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এবার ধানের মান ও দেশের সার্বিক চাহিদা কম থাকায় বেচাকেনা নেমে এসেছে তলানিতে। জেলার সর্ববৃহৎ ধানের আড়ত মধ্যনগর বাজারে যেখানে আগে দিনে ৩০-৩২ হাজার মণ ধান কেনাবেচা হতো, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৭-৮ শত মণে।

বর্তমানে বাজারে চিকন ধান ১,১০০-১,২০৩ টাকা, ভালো রঙের হাইব্রিড ধান ৮০০-৯০০ টাকা এবং কালচে ধান মাত্র ৪০০-৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে—যা চাষাবাদ ও শ্রমিক খরচের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।

জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার ২১,৩৪৯ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২০,০৮৫ টন ধান কেনা হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময় ৩১ আগস্ট পার হওয়ার আগেই আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে হুট করে ধান কেনা বন্ধ করে দেয় কেন্দ্র। ফলে আকস্মিকভাবে ধানের দাম পড়ে যায়।

কৃষক নেতাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে পানির দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। একদিকে সরকার দেশীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা কমিয়েছে, অন্যদিকে উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করছে।

ধান বিক্রি করতে না পেরে ঘরবাড়ি মেরামত, সন্তানের পড়াশোনা এবং আগামী মৌসুমের কৃষিকাজের খরচ চালানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন চাষিরা। শাল্লা, জামালগঞ্জ ও দিরাইয়ের কৃষকেরা আক্ষেপ করে জানান, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ হিসাব করলে এবার ব্যাপক লোকসান গুণতে হচ্ছে; এমন অবস্থা চলতে থাকলে তারা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল প্রথম সিলেটকে জানান, হাওরের কৃষকদের সংকট নিরসনে সরকারিভাবে আরও বেশি পরিমাণ ধান কেনার দাবি জানিয়ে তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন। দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ না মিললে সুনামগঞ্জের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধ্বস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad