জগন্নাথপুরে কুশিয়ারায় বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৪ লাখ টাকা জরিমানা

জগন্নাথপুরে কুশিয়ারায় বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৪ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর

১৪/০৯/২০২৬ ২১:৩০:৪৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়ন সংলগ্ন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কুশিয়ারা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে অনুমোদিত এলাকার বাইরে থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে একটি ড্রেজার ও দুটি বলগেট নৌকা আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় কুশিয়ারা নদীতে এ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহসীন উদ্দীনের নেতৃত্বে থানার এসআই ওমর ফারুক, উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী ফারুক আহমদ, পাইলগাঁও রানীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) সেলিম মিয়া।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, পাইলগাঁও ইউনিয়ন সংলগ্ন কুশিয়ারা নদীর এতবারপুর মৌজা এলাকায় অনুমোদিত বালুমহালের বাইরে থেকে একটি ড্রেজার ও দুটি বলগেট নৌকার মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বালু উত্তোলনরত অবস্থায় একটি ড্রেজার ও দুটি বলগেট নৌকা আটক করা হয়।

এসময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়। পরে মোবাইল কোর্টে তাদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোবাইল কোর্টে দুই আসামির প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুশিয়ারা নদী থেকে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হলে অবৈধ বালু উত্তোলন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি অনুমোদন ছাড়া কিংবা নির্ধারিত বালুমহালের বাইরে থেকে বালু উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা ভাল।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহসীন উদ্দীন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়। পরে মোবাইল কোর্টে তাদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্টে দুই আসামির প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

একই সঙ্গে অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি আইন অমান্য করে কেউ বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad