সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গু, তথ্য নেই সিভিল সার্জনের কাছে

সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গু, তথ্য নেই সিভিল সার্জনের কাছে

প্রথম ডেস্ক

০৭/০৭/২০২৬ ১৬:৫৮:২৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও আক্রান্ত রোগীদের সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে অবগত নন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন। বর্ষার শুরুতে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ক্ষেত্রে উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় জেলা প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনৃ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন। জেলাভিত্তিক আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩ জন হবিগঞ্জে, সুনামগঞ্জে ১৫ জন, সিলেটে ১২ জন এবং মৌলভীবাজারে ৬ জন। এছাড়া বিভাগের বাইরের আরও ৩ জন রোগী রয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৬ জনের মধ্যে ৩ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।


অথচ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সঠিক তথ্য দিতে পারেননি সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন। হাসপাতালে কতজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন—জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বলেন, সিলেটে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই। পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজে ৩ জন চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হলে তিনি বলেন, সকাল থেকে সিলেটের বাইরে থাকায় সর্বশেষ তথ্য তার জানা ছিল না। জেলার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে এই তথ্য না জানা দায়িত্বের গাফিলতি কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “গাফিলতি কেন হবে? আমার তো অনেক কাজ করতে হয়। সবকিছু কি সবসময় মনে থাকে...” এই বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


অবশ্য সিভিল সার্জন দাবি করেন, জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ফ্লুইড ও চিকিৎসাসামগ্রীর কোনো সংকট নেই। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দৃশ্যমান প্রচার-প্রচারণা তুলনামূলক কম হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।


এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সুমন জানান, বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোনো স্থানীয় ডেঙ্গু রোগী নেই। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৪০ জন কর্মী প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০টি বাড়ি পরিদর্শন করে লার্ভা সার্চিং ও এডিস মশা ধ্বংসের কাজ করছেন। ১ জুলাই থেকে বাড়ি বাড়ি লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। কোনো লার্ভা পাওয়া গেলে র‌্যাপিড রেসপন্স টিমের মাধ্যমে তা ধ্বংস করা হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।


সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত নালা-ড্রেন পরিষ্কার ও স্প্রে করা হচ্ছে। সিসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে। নগরবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করি।"


স্বাস্থ্য বিভাগের এই তথ্য সমন্বয়হীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নাগরিক প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক কাসমির রেজা এবং সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, ডেঙ্গুর মতো জনস্বাস্থ্য সংকটের সময়ে সিভিল সার্জন অফিসের কাছে সঠিক তথ্য না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগের। তথ্য না থাকলে তারা রোগ নিয়ন্ত্রণ করবেন কীভাবে? স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর প্রস্তুতি না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আর আর

মন্তব্য করুন: