সিলেটে হামের ভয়াবহ রূপ
শামসুদ্দিন হাসপাতালে শয্যা সংকট, এক বিছানায় দুই শিশু
সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন হামের উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগী ভর্তি হওয়ায় হাম ডেডিকেটেড শহিদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একই বিছানায় একাধিক শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যার ফলে সুস্থ শিশুরও নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) নিজের ছেলেকে ভর্তি করানো সুয়েবুর রহমান জানান, তাঁর ছেলের শয্যায় আরও এক শিশু ভর্তি রয়েছে। অথচ তাঁর ছেলের হাম এখনো শনাক্ত হয়নি, কেবল উপসর্গ আছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "একই বিছানায় থাকার ফলে সুস্থ শিশুও আক্রান্ত হতে পারে। এখানে সুস্থ হওয়ার বদলে ঝুঁকি আরও বাড়ছে।" বর্তমানে ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে ১২৬ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। শয্যা না পেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক রোগীরা মেঝেতে অবস্থান করছেন। হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে উপচে পড়া ভিড় এবং চিকিৎসক-নার্সরা রোগীদের সেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ৩ জন হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৭ জনে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কেউ মারা না গেলেও শনিবার থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মোট শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় শয্যা সংখ্যার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী সামাল দিতে হচ্ছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডকে হাম রোগীদের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর না হওয়ায় সব চাপ সামলাতে হচ্ছে শামসুদ্দিন হাসপাতালকেই। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: