মৌলভীবাজারে সওজের রাস্তা ও গাইড ওয়াল ধসে দুর্ভোগ
Led Bottom Ad

লাখো মানুষের বন্যা আতঙ্ক

মৌলভীবাজারে সওজের রাস্তা ও গাইড ওয়াল ধসে দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

০৭/০৫/২০২৬ ১৩:২৭:২৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হামরকোনা গ্রামের কাছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি সড়ক ও নবনির্মিত গাইড ওয়াল ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের কাজের কারণেই বছর না ঘুরতেই সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক গ্রামের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় অতিবৃষ্টি ও ঢলের পানির তোড়ে সড়কটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে আশপাশের লক্ষাধিক মানুষ বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

সওজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পুরাতন অংশটি কুশিয়ারা নদীর বদ্ধ ফিশারির তীর ঘেঁষে হামরকোনা ও দাউদপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়ে বর্তমান মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ১৯৭৭ সালে ভয়াবহ বন্যায় রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার পর মহাসড়কটি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেওয়া হলেও পুরাতন অংশটি স্থানীয়দের যাতায়াতের প্রধান পথ হিসেবে রয়ে যায়। হামরকোনা, দাউদপুর, নাদামপুর, শেখহাটিসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। তবে প্রতি বছর বর্ষায় স্রোতের চাপে সড়কে ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে একটি টেকসই সড়ক ও গাইড ওয়ালের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

ভুক্তভোগীদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই দফায় ৯০ লাখ ও ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার ও গাইড ওয়াল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা ও যুবলীগ নিয়ন্ত্রিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেনতেনভাবে কাজ করে পুরো বিল তুলে নেয়। কাজের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ করলেও তৎকালীন সংসদ সদস্যের হুমকির মুখে সেই পোস্ট সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

হামরকোনা গ্রামের প্রবাসী রুবেল আহমদ জানান, গত বছর সংস্কারের এক বছর না যেতেই গাইড ওয়াল ধসতে শুরু করলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বাঁশ পুঁতে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এ বছরের শুরুতেই অতিবৃষ্টি ও ফিশারির পানির চাপে সড়কের বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। দাউদপুর গ্রামের অধিবাসী ও সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আবুল হোসেন বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাবশালী ঠিকাদারের মাধ্যমে লুটপাট হওয়ায় আজ গ্রামবাসী ঝুঁকির মুখে পড়েছে।”

মৌলভীবাজার সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ এ বিষয়ে বলেন, “সড়কের পাশের গভীরতা বেশি হওয়ায় গাইড ওয়াল ও পাকা সড়কের একাংশ ধসে পড়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad