মৌলভীবাজারে নদী খনন প্রকল্পে কোটি টাকার অপচয়
Led Bottom Ad

কৃষকের উপকারে আসেনি নদী

মৌলভীবাজারে নদী খনন প্রকল্পে কোটি টাকার অপচয়

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

১২/০৪/২০২৬ ১৪:৪৬:৩৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের এক সময়ের প্রমত্তা শাখা বরাক নদীর নাব্য ফেরাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি টাকার খনন প্রকল্প কোনো কাজেই আসেনি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের অপরিকল্পিত খননের ফলে নদী এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা, আর বর্ষায় দেখা দিচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।

কুশিয়ারা নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সাড়ে আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীটি এক সময় লঞ্চ ও স্টিমার চলাচলের জন্য পরিচিত ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে নদীটির ৩০০ ফুট প্রশস্ততার মাত্র ৩০-৪০ ফুট খনন করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননকৃত মাটি নদীর পাড়ে না ফেলে ভরাট অংশে স্তূপ করে রাখায় নদী দখলের মহোৎসব শুরু হয়েছে। খলিলপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মতে, এই প্রকল্প কেবল সরকারি টাকার তছরুপ ছাড়া আর কিছুই নয়; বরং নদী ভরাট হওয়ায় ভাটি অঞ্চলে পানি জমে কৃষকের ‘গলার ফাঁস’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নদীর পাড়ের প্রবীণরা জানান, আশির দশকে স্লুইসগেট ও বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। ২০২০ সালের খনন কাজে আশা জাগালেও তা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘দ্য ভয়েস অব দ্য রিভার মনু’-এর সভাপতি আ স ম সালেহ সুহেল বলেন, যথাযথ জরিপ ছাড়া ও অপরিকল্পিতভাবে খনন করায় নদীর প্রবাহ সচল হয়নি। দেশীয় মাছ ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হলে দখল হওয়া জমি উদ্ধার করে পুনরায় পরিকল্পিত খনন জরুরি।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানান, নদীর একাংশ জুড়ে ধর্মীয় স্থাপনা ও রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় সবটুকু খনন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ অংশ খনন না হওয়া পর্যন্ত মৌলভীবাজার অংশের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। বর্তমানে নদীটি তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলায় সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষি ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad