মৌলভীবাজারে নিম্নমানের সরকারি বীজে ফলন বিপর্যয় : দিশেহারা প্রান্তিক কৃষক
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ করা রবি মৌসুমের বীজের মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা। নিম্নমানের বীজ ব্যবহারের ফলে তরমুজ ও টমেটো চাষে কাঙ্ক্ষিত ফলন না হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের মাহতাবপুর, ইসমাইলপুর ও রজনপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক জমিতে বীজের অঙ্কুরোদগমই হয়নি, আবার কোথাও গাছ বড় হলেও ফলন অত্যন্ত নগণ্য। মনু বাজারের কৃষক ইমরান আহমদ জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ নিয়ে ৩০ শতক জমিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করে তরমুজ চাষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বীজের মান খারাপ হওয়ায় তাঁর স্বপ্ন ভেস্তে গেছে। একই অভিযোগ হাসান আহমদেরও; তিনি ১৫ শতক জমিতে ২ হাজার টমেটো চারা রোপণ করেও কোনো ফল পাননি। কৃষকদের দাবি, কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব এবং নিম্নমানের বীজের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের কৃষি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক হেলাল খান জানান, এই এলাকার মাটি বেশ উর্বর হওয়া সত্ত্বেও বীজের গুণগত মান ঠিক না থাকায় ফলন ভালো হয়নি। এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। সরবরাহকৃত 'সুপ্রিম সিড' ও 'ইউনাইটেড সিড'-এর বীজের সমস্যার বিষয়টি কোম্পানিকে জানানো হয়েছে। তবে তিনি দেরিতে রোপণ এবং শিলাবৃষ্টিকেও ফলন কম হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার পর তাঁদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামীতে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সতর্ক থাকবে বলে তিনি জানান।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: